০১:২১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম হামলা চালানোর ১০০ দিন পার হয়ে গেলেও, এখনও কোনো শান্তি চুক্তি হয়নি। তবে, এই সময়ের মধ্যে কয়েক দফায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। এই অভিযানের মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা ঘটে। হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়, এবং দেশটি ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
এই ঘটনায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মহলও সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নিতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে হাম সংক্রমণ ৩৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল, আক্রান্ত ৫১৮২
এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, যা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আশা তৈরি করে।
তবে, শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা খুব বেশি দূর এগোয়নি। ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু, সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে যায়।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি, এবং এরপর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একাধিক শান্তি প্রস্তাব আদান-প্রদান করে আসছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চললেও, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
এদিকে, শান্তি প্রচেষ্টার পাশাপাশি নতুন করে কয়েকটি উত্তেজনাকর ঘটনাও ঘটেছে, যা এসব ঘটনার কারণে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। শান্তি আলোচনার ভবিষ্যতের নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে প্রভাব ফেলবে কিনা দেখছে ইরান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন