প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোণা পৌরসভা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব, শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা গভীর রাতে ঢালাই কাজ তদারকি করেছেন, যাতে সড়ক উন্নয়ন কাজের গুণগত মান বজায় থাকে এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
গতকাল সোমবার রাত ১১টায় তিনি জেলা শহরের পৌর এলাকা ইসলামপুর মোড় থেকে চন্দ্রনাথ স্কুল গেট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন, শিশুকন্যাকে সাথে নিয়ে। তাঁর এই নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং বিশিষ্টজনদের মাঝে গভীর মুগ্ধতা ও প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।
নেত্রকোণা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের ইসলামপুর মোড় থেকে চন্দ্রনাথ স্কুলের গেট পর্যন্ত ২৯০ মিটার দীর্ঘ সড়কের উন্নয়ন ও ঢালাই কাজের উদ্বোধন এবং তদারকিতে গভীর রাতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সঠিক নিয়মে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি-না, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এই কর্মকর্তা। তিনি শুধু রাতে নয়, এর আগে দুপুরেও কাজের রড বাইন্ডিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন।
মুন মুন জাহান লিজার এই উদ্যোগ মূলত কাজের গুণগত মান এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তদারকির কাজ করছেন, নারী হিসেবে নয়। কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি জানান, ঢালাইয়ের আগেই রড বিছানোর ছবি তিনি সবার দেখার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মুন মুন জাহান লিজা বলেন, ‘আমি ঢালাইয়ের আগেই ছবি দিয়েছি। যদি কেউ কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করে বা ত্রুটি ধরিয়ে দেয়, তাহলে আমি সেটা আবার ঠিক করব। আমার সৎ সাহস আছে বলেই আমি এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি।’
গভীর রাতে কাজের তদারকি করাটা ব্যক্তিগত নাকি দাপ্তরিক দায়বদ্ধতা-এমন প্রশ্নের জবাবে দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটাকে আপনারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বা কর্মের দায়বদ্ধতা বলতে পারেন। এখানে নারী হিসেবে নয়, আমি নিজেকে একজন কর্মকর্তা হিসেবে দেখছি। এখানে জেন্ডার বড় বিষয় নয়। আমার যে পরিচয় ও পদবি, সেই অনুযায়ী জনগণের সেবা যেন সুনিশ্চিত হয় এবং কাজের গুণগত মান যেন বজায় থাকে, সেজন্যই আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ দেখছি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন