প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল বিভাগে প্রতিবছর চোখে ছানি পড়ার ঘটনা ঘটছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের। শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে চক্ষু বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক জনগণের চিকিৎসার জন্য সেখানে যেতে হচ্ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের এক কোটি মানুষের চোখের চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে একমাত্র ভরসা শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এদিকে, বরিশাল বিভাগকে ২০৩০ সালের মধ্যে ছানিমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে।
শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের premises-এ গিয়ে সময় সংবাদের সাথে কথা হয় ৭০ বছরের দিদার চৌধুরীর। তিনি জানান, "কিছুদিন ধরে ঝাপসা দেখছিলাম। ভেবেছিলাম বয়সজনিত সমস্যা। কিন্তু এখন দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে আসায় ছুটে এসেছি শের-ই-বাংলা মেডিকেলে। জানতে পারি চোখে ছানি পড়েছে।"
হাসপাতালটির সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য রোগী। তারা দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন।
এক রোগীর স্বজন বলেন, "শের-ই-বাংলা মেডিকেল ছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই। যে কারণে লম্বা লাইন ধরে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।" আরেকজন জানান, "অনেক দূর থেকে আসতে হয়েছে, এতে অনেক টাকাও খরচ হচ্ছে আমাদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যদি ভালো ডাক্তার থাকতো তাহলে আমাদের এতো দূর আসতে হতো না। কম টাকায় চিকিৎসা নিতে পারতাম।"
এক যুবক জানান, "পটুয়াখালীতে হাসপাতালে যদি চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকতেন, তাহলে তো আমাদের এখানে আসতে হতো না।"
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগে বছরে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ ছানি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল ছাড়া বিভাগের অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই। তাই চোখের সমস্যা নিয়ে রোগীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ডিবি পাল বলেন, "সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক স্বল্পতার কারণেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে রোগীরা ধাবিত হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান করা দরকার।"
বেসরকারি হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য হিমশিম অবস্থা।
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগীরা জানান, "সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক কম থাকায় এখানে আসতে হয়েছে, দ্রুত চিকিৎসার জন্য। বেসরকারিভাবে খরচও বেশি। সরকারিভাবে করলে তো খরচটা অনেক বাঁচত। গরীব রোগীদের জন্য সেটা ভালো হতো, উপায় না পেয়ে এখানে আসা।"
বরিশাল বিভাগকে ২০৩০ সালের মধ্যে ছানি মুক্ত করতে প্রান্তিকপর্যায়ে কাজ চলছে বলে জানান দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (বরিশাল) ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, "যে সংকটগুলো রয়েছে মানে জেলা শহরের হাসপাতালে একাধিক চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পদায়ন করা, তাহলে জেলাগুলোর মানুষ সুচিকিৎসা পাবে।"
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য বলছে, বরিশাল বিভাগের এক কোটি মানুষের চোখের চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে ভরসা শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন