প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দূর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়ে থাকা প্রবাসীর স্ত্রী ফারজানার আক্তার (২৮) মারা গেছেন। ঘটনার দুই মাস ১০ দিন পর, গত শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পিতা ঘটনার পর জিডি করার কথা বললেও পুলিশ জানাচ্ছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন জিডি হয়নি।
"মামলা দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব।" ফারজানার শ্বশুর বাড়ির লোকজন জানাচ্ছেন, নিহতের পিতা তাদের সাথে এ বিষয়ে কোন সমন্বয় করেননি। তবে এ ঘটনায় নানা ধরণের প্রশ্ন উঠছে চারিদিকে।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় ১২-১৪ বছর আগে সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়ার সাথে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের অহিদ মিয়ার মেয়ে ফারজানার সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামী সবুজ মিয়া প্রবাসে চলে যান।
ইতিমধ্যে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এহসানুল হক তাসনিদ (৬ বছর, ৪ মাস) নামের একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান। ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে অনার্স পড়ছিলেন।
স্বামী সবুজ মিয়া প্রায় ৫ বছর ধরে সৌদীতে অবস্থান করছেন। ফাইনাল পরীক্ষা দিতে ফারজানা এই বছরের জুন মাসের প্রথম দিকে বাবার বাড়ি নোয়াগাঁও গ্রামে যান।
ওই বাড়িতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ফারজানার এক ছোট বোনও বসবাস করছেন। ২২ জুলাই রাতে তারা যথারীতি ঘুমিয়ে পড়েন।
গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা ঘুমন্ত ফারজানার উপর হামলা চালায়। শরীর ও মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে।
ভোরে পরিবারের লোকজন দেখতে পায় রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে ফারজানা। মাথার আঘাত ছিল খুবই জটিল।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক সন্তানের জননী ফারজানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত দুই মাস ১০ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে গতকাল তিনি হার মেনেছেন।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারজানার মৃত্যু ঘটে। তাঁর মৃত্যুর খবর গতকাল সরাইলে প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে বাবার বাড়ি, স্বামীর বাড়ি ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এত নির্মম নৃশংস ঘটনার দুই মাস পরও হামলাকারীরা চিহ্নিত না হওয়ায় তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নানা ধরণের প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলছেন, বসতঘরের দরজা জানালা ও ক্লাক্সিবল গেইটসহ সব ভেতর থেকে লাগানো ছিল। তারপরও দূর্বৃত্তরা কিভাবে ভেতরে প্রবেশ করলো ও বেরিয়ে গেল?
এত বড় ঘটনা ঘটার পরও ছোট বোনসহ অন্যদের ঘুম ভাঙেনি কেন? নিহতের বাবা অহিদ হোসেন বলেন, "ভোরবেলা উঠে দরজা খোলা পেয়েছি।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছি। কে বা কারা আমার এত বড় ক্ষতি করেছে বুঝতে পারছি না।" থানায় জিডিও করেছেন।
শ্বশুর মো. ফজল মিয়া বলেন, "ঘটনার দেড় মাস আগে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার কথা বলে ফারজানা বাবার বাড়িতে গিয়েছিল।
ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিয়াই (অহিদ হোসেন) আমার সাথে কোন ধরণের সমন্বয় করেননি। আমি না জেনে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।
তিনটা জীবন শেষ হয়ে গেল। আমার নাতিটা কী নিয়ে বাঁচবে?" সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.
মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, "ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত গৃহবধূর পিতা বা পরিবারের কেউ কোন জিডি/মামলা করেননি। আজকে (গতকাল শনিবার) ঢাকা থেকে আমাদেরকে মৃত্যুর সংবাদটি জানিয়েছেন।
আমরা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে বলেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন