প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান জন র্যাটক্লিফ সম্প্রতি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অঘোষিত সফর করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তার মস্কোতে পৌঁছানোর খবরটি বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএসের একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনা থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটে, যার ফলে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকগুলি অত্যন্ত বিরল হয়ে পড়েছে।
সিআইএ প্রধানের সফরের সময় তিনি কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বা সফরের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মস্কোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সফরের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে এই উদ্যোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো থেকে নিরাপদে ফিরে না আসা পর্যন্ত ইউক্রেনকে সকল ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী ‘সি-১৭’ পরিবহন বিমান লাটভিয়ার রিগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে এবং মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় যে, একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক গাড়িবহর মস্কো শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে যাচ্ছে। দিনভর অবস্থান শেষে একই দিনে বিমানটি পুনরায় রিগায় ফিরে যায়।
মস্কোতে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে জন ফোরম্যান মনে করেন, হঠাৎ করে আয়োজিত এই সফরের পেছনে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ‘উত্তেজনা কমানোর’ প্রচেষ্টা থাকতে পারে। সম্প্রতি জার্মানিতে ড্রোন অনুপ্রবেশসহ একাধিক ঘটনার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এছাড়া, এই সফরের আরেকটি সম্ভাব্য বড় কারণ হতে পারে রাশিয়ায় আটক মার্কিন বন্দিদের মুক্তি। সিআইএ প্রধান র্যাটক্লিফ এর আগে বন্দি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ইউক্রেন সমর্থনের অভিযোগে কারারুদ্ধ রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সিআইএ প্রধানের এই আকস্মিক সফর ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন