প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতির ফলে এবং টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট খানাখন্দের ফলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত কাজ করে চলেছে, তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালেও আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকা মুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি। বরং ধীরগতিতে চলাচল করা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে।
হাইওয়ে পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ গত তিন মাস ধরে চলছে। কাজের সুবিধার্থে এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু টানা বৃষ্টিতে আক্রান্ত বিকল্প লেনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, এবং সেখান থেকে কাদা-পানি ছড়িয়ে পাশের ভালো সড়কও নষ্ট হচ্ছে। ফলে যানবাহন বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে, যা প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা থেকে এড়াতে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করেন, যা যানজটকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়। শুক্রবার সকালেও আলেখারচর থেকে সুয়াগাজী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে, হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
যানজট নিয়ন্ত্রণে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার একাধিক মোবাইল টিম এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, 'গত তিন মাস ধরে এই অংশে সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে আশপাশের অংশও ভেঙে যাচ্ছে। যানবাহনের তীব্র চাপ ও দীর্ঘ যানজট নিয়ন্ত্রণে গত তিন দিন ধরে আমাদের সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রুত সড়ক সংস্কার না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সওজ বিভাগকে বারবার অবহিত করা হলেও এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।'
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, 'বৃষ্টি হলেই আমতলী এলাকার ভোগান্তি প্রতিদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। গত তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টির ফলে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল সড়কের পাশাপাশি বিকল্প লেনেও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গত দুই দিনে শুধু এই স্থানেই অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়, ফলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিষয়টি একাধিকবার সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হলেও খুব বেশি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে, প্রতিদিনই যানজট বাড়ছে এবং জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।'
যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন ট্রাক ও বাসাচালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এটা জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়াচ্ছে।
যাত্রীরা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জানতে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এবং আমতলী অংশের সংস্কারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে, এ বিষয়ে তাদের পক্ষে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন