প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রথমবারের মতো সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এক বছরের মধ্যে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদনটি জানায়, গত অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। এ সময় সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। তবে সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি ঋণ গ্রহণ করেছে। এর ফলে অর্থবছরের শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণ একটি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
গত অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার ১ লাখ ৩১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরে ছিল ৭৭ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৪২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।
এছাড়া, বিদেশি ঋণের স্থিতিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মার্চের শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতি ৯১ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে, দেশের মুদ্রায় সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতি ১১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারের বিদেশি ঋণের জুন পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি, ফলে গত অর্থবছরের শেষে বিদেশি ঋণের স্থিতি কেমন ছিল তা জানা যায়নি।
তবে মার্চ পর্যন্ত বিদেশি ঋণের স্থিতি বিবেচনায়, সরকারের দেশি ও বিদেশি ঋণের স্থিতি প্রায় সমান। দেশি ও বিদেশি ঋণ মিলিয়ে সরকারের ওপর এখন প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। ঋণের পরিমাণ যত বাড়ছে, ঋণের সুদের চাপও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন