প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন আগস্ট মাস ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্ভাব্য অভিযান ও গণ-গ্রেফতারের আতঙ্কে চরম দিন কাটাচ্ছেন বরিশালের আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। আগামী ৫ই আগস্ট থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার এড়াতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন তারা। এই সময়ের মধ্যে যেকোনো ধরনের পুলিশি ঝামেলা বা আটক অভিযান এড়াতে নগরীর পরিচিত মুখগুলো এখন আত্মগোপনে। বরিশাল নগরী ছেড়ে তারা ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, যার বড় একটি অংশের বর্তমান গন্তব্য হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা।
তালাশ বিডির টানা কয়েকদিনের বিশেষ অনুসন্ধানে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনের এই আড়ালের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বরিশাল নগরীর এক আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি যায় তালাশ বিডির প্রতিনিধি দল। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নগরীতে না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, আগস্ট মাস এলেই পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তাই তিনি কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগেই নগরীর বাইরে চলে গেছেন। অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ওই ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেও কোনো কর্মসূচিতে যাইনি, তাও তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিবি পুলিশ এসে আমাকে আটক করে নিয়ে যায়। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কোনো সুযোগ দিতে চাই না। ১৫ই আগস্ট পার হলে পরিস্থিতি বুঝে আবার নিজের ব্যবসায় ফিরে আসব।"
অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে বরিশাল নগরীর একটি প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তথা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ক্ষেত্রেও। তালাশ বিডির টিম যখন তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে, শুরুতে তিনি দাবি করেন যে তিনি বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে তালাশ বিডির বিশেষ প্রতিনিধি দল তাকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখার তথ্যপ্রমাণ সামনে আনতেই তার সুর বদলে যায়। কিছুটা নিচু গলায় ও ইতস্তত বোধ করে তিনি বলেন, "ভাই, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আপনারা ভালোই বোঝেন। এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে কোথায় আছি তা কাউকেই সঠিকভাবে বলছি না। দয়া করে বিষয়টিকে অন্যভাবে নেবেন না, পরিস্থিতির কারণেই এই লুকোচুরি।"
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কেবল এই দুজনই নন—আগস্টের শুরু থেকেই ৫ই আগস্ট থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সময়টাকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' ধরে নিয়ে বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং মূল দলের মাঝারি থেকে তৃণমূল পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কুয়াকাটার বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছেন। সেখানে সাধারণ পর্যটকের ছদ্মবেশে দিন কাটাচ্ছেন অনেকেই।
তবে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতারের তীব্র আতঙ্ক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তালাশ বিডির গভীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আগস্ট মাস কেন্দ্র করে বরিশাল বা তৎসংলগ্ন এলাকায় গণ-গ্রেফতার বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আটক করতে ওপর মহল থেকে কোনো বিশেষ অভিযানের নির্দেশনা কিংবা সবুজ সংকেত আসেনি।
এ বিষয়ে তালাশ বিডির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "বর্তমানে আগস্ট মাস ঘিরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে আটক বা গ্রেফতার করার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। তাছাড়া বরিশালে এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার বা বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আগাম কোনো তথ্যও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নেই।"
তবে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে আরো যোগ করেন, "আগস্ট মাসকে ঘিরে যদি কেউ মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালায়, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী উসকানিমূলক মিছিল, গোপন সভা বা রাজপথে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে ছাড় দেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভয় ও স্পষ্ট বক্তব্য সত্ত্বেও, কেবল অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং মনস্তাত্ত্বিক গ্রেফতার আতঙ্কেই বরিশাল ছেড়ে কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন দূরবর্তী স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত এই লুকোচুরির চিত্র বজায় থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন