০৭:৩১ পি.এম
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)’র চেয়ারম্যান জিম স্কিয়া মন্তব্য করেছেন যে, ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ জলবায়ুবিষয়ক কিছু বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তবে ইউরোপকে ভবিষ্যতে আরও বেশি চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
প্যারিস থেকে এএফপি জানাচ্ছে, বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্কিয়া বলেন, চলতি সপ্তাহে ইউরোপে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা আইপিসিসি দীর্ঘদিন ধরে যে সম্ভাব্য চরম অবস্থার পূর্বাভাস দিয়েছিল, তার ‘সীমার কাছাকাছি’ অবস্থান করছে।
তবে তিনি জানিয়েছেন যে, আঞ্চলিক পর্যায়ে এবং সমুদ্রসংক্রান্ত কিছু প্রভাব প্রত্যাশার চেয়েও বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে। স্কিয়ার ভাষায়, ‘কিছু বিষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আমাদের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে পূর্বাভাসের সীমার বাইরেও চলে গেছে।’
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
মঙ্গলবার ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটেন থেকে হাঙ্গেরি পর্যন্ত ইউরোপের একাধিক দেশে উচ্চমাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, বুধবার ইউরোপে অন্তত ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হবে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ফ্রান্স ও স্পেনের বাসিন্দা।
স্কিয়া বলেছেন, ‘গত কয়েক দিনে আমরা যা দেখেছি, ভবিষ্যতে অনিবার্যভাবেই তার আরও বেশি অভিজ্ঞতা হবে।’
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনগুলোর তাপমাত্রা গড় তাপমাত্রার তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এসব ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি হতে পারে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তার মতে, যদি বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তাহলে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
আইপিসিসি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ুবিষয়ক গবেষণাগুলোর মূল্যায়ন করে এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর অন্তর বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংস্থাটির পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৮ বা ২০২৯ সালে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন