প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ একটি সন্দেহভাজন চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা সমকামী পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন করতে সহায়তা করছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, এই চক্রটি মূলত বাংলাদেশি পুরুষদের জন্য ভুয়া আশ্রয় আবেদন তৈরিতে সহায়তা করত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুজনকে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, গয়না এবং হাজার হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। অপর একজনকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহে আটক করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্দেহভাজন চক্রটি অভিবাসীদের কাছ থেকে ভুয়া প্রমাণ তৈরির জন্য এক হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত নিত। এসব প্রমাণের মধ্যে ছিল সমকামী পরিচয়ের পক্ষে সাজানো ছবি, ভুয়া চিঠি ও নথি এবং সমকামী সম্পর্কের দাবির সমর্থনে তৈরি করা বিভিন্ন কাগজপত্র।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, তদন্তকারীরা এমন তথ্য পেয়েছেন যে, চক্রটি পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’-এর নামে ভুয়া চিঠি ও নথি সরবরাহ করত। একই সঙ্গে সমকামী পরিচয় প্রমাণের জন্য সাজানো ছবি এবং আবেদনকারীর সঙ্গে সমকামী সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবিতে চিঠিও তৈরি করা হতো।
সন্দেহজনক এসব আবেদনের ধরন প্রথমে আশ্রয় আবেদন যাচাইকারী কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর কয়েক মাস ধরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালায়। বর্তমানে এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০০টির বেশি আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ক্রিস ফস্টার বলেন, এসব ভুয়া আবেদনের কিছু ‘নিশ্চিতভাবেই’ অনুমোদিত হয়ে থাকতে পারে।
বিবিসির অনুসন্ধানে এর আগে উঠে এসেছিল, যুক্তরাজ্যে কিছু আইনজীবী ও পরামর্শক অভিবাসীদের সমকামী পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করতে সহায়তা করছেন। গত এপ্রিলের ওই অনুসন্ধানে এমন এক পরামর্শকের কথা প্রকাশ করা হয়, যিনি গে ক্লাবে তোলা ছবি ও অন্যান্য সহায়ক প্রমাণসহ একটি ‘সম্পূর্ণ প্যাকেজ’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
এতে আরো উঠে আসে, পূর্ব লন্ডনের বেকটনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত একটি এলজিবিটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন পুরুষ স্বীকার করেছিলেন যে, তারা প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন। তাদের একজন বলেছিলেন, সেখানে কেউই সমকামী নন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন