প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিশু অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং তরুণদের সামাজিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের তরুণ সংগঠক আসমাউল হুসনা জীম আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। এই মনোনয়নটি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক উদ্যোগে যুক্ত থাকার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন জীম। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ছোটবেলা থেকেই যুক্ত। আবৃত্তি, বক্তৃতা, বিতর্ক, অভিনয়, রচনা, কুইজ এবং গল্প বলায় তার আগ্রহ রয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ১০ বার পুরস্কার অর্জন করেছেন।
জীমের সাংস্কৃতিক চর্চা থেকেই সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি দুইবার জাতীয় শিশু পুরস্কার লাভ করেছেন। জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও তিনি দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০২১ সালে ই-জিনিয়াস পদক, ২০১৯ সালে মঞ্চকুঁড়ি পদক এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ভলান্টিয়ার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন জীম। আন্তর্জাতিক স্তরে তিনি ইন্টারন্যাশনাল স্টার কিডস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ও পেয়েছেন।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক কাজেও তিনি সক্রিয়। নিরাপদ অ্যালায়েন্সের সদস্য হিসেবে শিশু অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
২০২৫ সাল থেকে স্টেট অব ইয়ুথের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চ্যাপ্টার লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি দ্য স্টার্টআপ আইও ফাউন্ডেশনের টিন-এক্স প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব লিড হিসেবেও কাজ করছেন।
জীমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর কাছে শিশু অধিকার ও ইন্টারনেট নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছেছে। নিরাপদ অ্যালায়েন্সের বিভিন্ন ইয়ুথ অ্যাসেম্বলির মাধ্যমে ২০ হাজারের বেশি শিশু-কিশোর সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে তার অনলাইন সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রায় ৩৫ লাখ ভিউ পেয়েছে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জীমের মনোনয়নের বিষয়ে নিরাপদ অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ফাতিন সাদাব লিয়ান মন্তব্য করেন, ‘জীমকে আমরা খুব কাছ থেকে কাজ করতে দেখেছি। অল্প বয়স থেকেই শিশু অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নারী ও শিশু সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য তার মনোনয়ন আমাদের জন্য আনন্দের। এটি দেশের অন্য তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’
মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আসমাউল হুসনা জীম বলেন, ‘আমি খুব আনন্দিত ও গর্বিত। আন্তর্জাতিক একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের। এই মনোনয়ন আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষায় আমি সব সময় কাজ করে যেতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারে—এটাই আমার লক্ষ্য।’
ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজ শিশু অধিকার ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করা শিশু-কিশোরদের কাজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের জন্য জীমের মনোনয়ন তার শিশু অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কাজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন