প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার অর্ধেকের বেশি মানুষ পানীয় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ওসিএইচএর বিরুদ্ধারণ, গাজার ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ দৈনিক পান করা ও রান্নার জন্য মাথাপিছু ৬ লিটারেরও কম পানি পাচ্ছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে, একজন মানুষের প্রতিদিন অন্তত ১৫ লিটার পানি প্রয়োজন, যা মানবিক সহায়তার মানদণ্ডে বলা হয়েছে।
এছাড়া, গাজার প্রায় ৭ লাখ মানুষ মাথাপিছু ৯ লিটারেরও কম পানি পাচ্ছেন প্রতিদিন। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয়তা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ওসিএচএ জানিয়েছে।
জাতিসংঘের সংস্থা বলছে, পানি সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। একই সঙ্গে পানি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পাত্র নেই। অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদেরই পানি বহনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
গাজার প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজন পানির জন্য ট্যাংকারের ওপর নির্ভরশীল। গত মাসে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো গাজাজুড়ে প্রতিদিন আড়াই হাজারের বেশি পানি সংগ্রহের পয়েন্ট এবং শতাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে পানি সরবরাহ করেছে।
স্যানিটেশন ব্যবস্থার পরিস্থিতিও ভয়াবহ। ওসিএইচএ জানিয়েছে যে গাজার মাত্র অর্ধেক পরিবারের জন্য মৌলিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ৯ লাখেরও বেশি মানুষ আবাসিক এলাকায় জমে থাকা বর্জ্যের সংস্পর্শে রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে গাজায় স্বাস্থ্যবিধির পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
এদিকে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর গাজায় ফের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের বাহিনী। গাজার উত্তরে, দক্ষিণে ও মধ্যাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। বুধবারের হামলাগুলোকে গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সর্বশেষ লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় পশ্চিমাঞ্চলীয় গোলচত্বরের কাছে একটি টুকটুককে লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছিল, আহত দুজনের একজন নিহত হয়েছেন। পরে তারা নিশ্চিত করে, তিনি নিহত নন, গুরুতর আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন থেকে গ্রেনেড ছোড়া হলে এক বৃদ্ধ ও এক শিশু আহত হন। নাসের হাসপাতালের একটি চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছেন, তাদের আঘাত মাঝারি ধরনের।
সাম্প্রতিক দিনে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কমেছে বলে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরাইল তা লঙ্ঘন করে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বোর্ড অব পিস’ অনুমোদিত এবং হামাসের গ্রহণ করা ১৫ দফা পরিকল্পনা ইসরাইল বাস্তবায়ন করছে। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ১৪৮ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। আন্তর্জাতিক
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন