প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোস্তাফিজুর রহমানের পারফরম্যান্সে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা গেল। নিশিনের পিচের ধরন অনুযায়ী, তার আরও কার্যকরী হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি হয়ে উঠলেন ‘রানমেশিন’! পূর্ববর্তী ম্যাচে তার বোলিংয়ের জন্য সোনার আশা শেষ হয়েছিল। আজও তিনি রান দিয়েছেন উদারহস্তে। আজ তিন ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন, যার মধ্যে এক ওভারে ২৫ রান এসেছে।
বোলিংয়ের সেই পারফরম্যান্সের কারণে শুরুর চাপ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। থারিন্দু রত্নায়েকে ৩২ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। বাংলাদেশের পদকের আশা যেন প্রথম ইনিংসের শেষেই ফিকে হয়ে যায়।
টসে হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো ছিল। প্রথম ওভারে মেহেদী হাসান কোনো বাউন্ডারি দেননি। পরের ওভারে অভিষিক্ত আলিসও একইভাবে বাউন্ডারি দেননি। তৃতীয় ওভারে মেহেদী দুই উইকেট তুলে নেন।
এরপর আলিসের ওভারেও দুই উইকেট পড়ে যায়। প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ফার্নান্দো, যা আলিসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম উইকেট। ওই ওভারের পঞ্চম বলে রান আউট হন সোহান ডি লিভেইরা। ৩.৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা ২১ রানে ৪ উইকেট হারায়।
এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে শ্রীলঙ্কা। আরাচাগে ও বান্দারা মিলে জুটি গড়েন। তারা ৪০ বলে ৩৩ রান যোগ করেন। ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ৫০-এর কিছু বেশি। উইকেট ছিল চারটি। এই জুটি বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তি সৃষ্টি করছিল। ১০.২ ওভারে রিশাদ তাদের জুটি ভাঙেন। তার লাফিয়ে ওঠা বলে সুইপ করতে গিয়ে বান্দারা টাইমিং ঠিক রাখতে পারেননি। ২৪ বলে ১৮ রান করে তিনি মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দেন। তখন স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ৫৪।
ম্যাচের মোড় ১৪তম ওভারে ঘুরে যায়। এই ওভারে অধিনায়ক লিটন দাস মোস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনেন। মোস্তাফিজ প্রথম দুই বলে চার খান। পরের চার বলের তিনটি ডট দেন। একটিতে খান ছক্কা। কিন্তু নো বল ও ওয়াইড মিলিয়ে ওভার শেষ হয় ২৫ রানে। এর আগে ১৩ ওভারে সাইফ হাসান ছাড়া অন্য কোনো বোলার ছয়ের বেশি রান দেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ওভারে ২৩ রান দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হাতছাড়া হয়ে যায়।
এরপর একের পর এক বাউন্ডারি আসতে থাকে। থারিন্দু রত্নায়েকে ২৭ বলে ফিফটি করেন। শেষ ৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৮৩ রান। ১৮.১ ওভারে মোস্তাফিজের বলে রিশাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রত্নায়েকে। তিনি ৩২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৫ রান করেন। তখন স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৪৭।
বোলিংয়ে রিশাদও শেষ দিকে খরুচে হয়ে পড়েন। প্রথম দুই ওভারে তিনি দেন মাত্র ৯ রান। কিন্তু শেষ দুই ওভারে দেন ৩৭ রান।
আগের ১০ ওভারে ৫০ রানের কিছু বেশি রান এসেছে, শেষ ১০ ওভারে ১১০ রানের কাছাকাছি। এই ব্যবধানই শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানের পুঁজি এনে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পদক জেতার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন