প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন রাজনীতিতে একটি অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দুই মার্কিন আইনপ্রণেতা— ক্যালিফোর্নিয়ার প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রো খান্না এবং কেনটাকির কট্টর রিপাবলিকান টমাস ম্যাসি— এবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরায়েলের সামরিক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে একটি আইনি ধারা বাতিলের দাবিতে একজোট হয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বিল ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) ২০২৭’-এর একটি নির্দিষ্ট ধারাকে লক্ষ্য নিবদ্ধ করে, এই দুই নেতা যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। বিলটির ‘সেকশন ২২৪’ ধারায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণা, উন্নয়ন, পরীক্ষা ও সামরিক একীকরণ সমন্বয়ের জন্য একজন বিশেষ ‘নির্বাহী এজেন্ট’ নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
রিপাবলিকান নেতা টমাস ম্যাসি এই ধারার তীব্র বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে একীভূত করার এই ধারাটি যদি কমিটি থেকে পাস হয়ে আসে, তবে আমি বিলটি থেকে এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব তুলব। আমরা একটি সার্বভৌম দেশ..."
ম্যাসির এই অবস্থানের পরে, তার সাথে হাত মেলান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না। গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের ভূমিকার উপর কড়া সমালোচনা করে খান্না ম্যাসির পোস্টের জবাবে লেখেন, তিনি কমিটির ভেতরেই এই ধারাটি বাতিলের প্রস্তাব তুলবেন। এ ছাড়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি যোগ করেন, ট্রাম্প তাদের এই জোটকে কোনোভাবেই নস্যাৎ করতে পারবেন না।
এর আগে, গত বছর ইরানের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করতে এই দুই নেতা একসাথে কাজ করেছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রাইমারি নির্বাচনে টমাস ম্যাসির হারার পেছনে এই ইসরায়েলবিরোধী জোট গঠন এবং শক্তিশালী মহলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকেও প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন রো খান্না।
খান্না এক্স পোস্টে লিখেছেন, "এবং @RepThomasMassie, আমি সেকশন ২২৪-কে বাদ দেওয়ার জন্য কমিটির ভেতরেই একটি সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আসব। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে যতই পোস্ট করুন না কেন, ম্যাসি/খান্না অংশীদারিত্বকে তিনি নস্যাৎ করতে পারবেন না।"
গত মাসে এনবিসি-র "মিট দ্য প্রেস" অনুষ্ঠানে ম্যাসির প্রাইমারি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন খান্না। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছিলেন যে, ইরানের যুদ্ধ এবং 'এপস্টাইন ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট'-এর বিরোধিতা করার কারণে তাদের যৌথ সহযোগিতার জন্য ম্যাসিকে "সরিয়ে দেয়" হয়েছে।
খান্না বলেন, "টমাস একজন সত্যিকারের বন্ধু। তিনি একজন ভালো মানুষ, এবং দুটি কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এপস্টাইন ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট পাস করার জন্য আমার সাথে কাজ করতে গিয়ে কিছু অত্যনত্ম শক্তিশালী মানুষের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস তিনি দেখিয়েছিলেন। তিনি যেমনটা উল্লেখ করেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক আইন যা শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার এনেছে; আর এর ফলে কিছু মানুষ লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করেছে এবং খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার পেছনে লেগেছিলেন। এবং দ্বিতীয়ত, ইরানের এই যুদ্ধ থামাতে তিনি আমার সাথে কাজ করেছিলেন।"
মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলকে দেওয়া অন্ধ সমর্থনের যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা ভাঙতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের এই এক্সটাঙ্গ অবস্থানকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরাইল
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন