ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের পূর্বে দেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের কাজ করছে। ভোটারের হাতের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির উত্তরাধিকারী হয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার দেশের অর্থনীতিকে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। সেখান থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের

পরে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে অনুদান প্রদান করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করে না। সবার সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান যাতে কোনো স্বৈরাচারের দোসর বা গুপ্ত গোষ্ঠী দুর্গাপূজায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো: মাজহারুল ইসলাম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধনবাড়ীতে রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দোকান ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ; আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


ধনবাড়ীতে রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দোকান ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ; আহত ২

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দোকানঘর ভাঙচুর ও আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সময় দোকানের ভেতরে থাকা দুই যুবক খুঁটির নিচে চাপা পড়ে আহত হন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী খোদেজা বেগম। পরদিন সকালে তার ছেলেকে পথরোধ করে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (১০ অক্টোবর) ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার জাগিরাচালা বাজার এলাকায় খোদেজা বেগমের নিজস্ব আড়াই শতাংশ জমিতে একটি দোকানঘর ছিল। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ট্রাক দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দোকানঘরটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আ. জলিল দুলাল (৬০), মো. কাজল (৩০), সৌরভ (১৯) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
খোদেজা বেগমের অভিযোগ, ট্রাকের সঙ্গে রশি বেঁধে টানাহেঁচড়া করে পুরো দোকানঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় দোকানের ভেতরে তার ছেলে মো. কাওসার মিয়া (১৯) ও ভাতিজা মো. এনামুল হক (২২) অবস্থান করছিলেন। দোকানঘর ভাঙার সময় খুঁটি তাদের ওপর পড়ে তারা গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। এ জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন খোদেজা বেগম।
এদিকে, শনিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রাস্তায় বের হলে তার ছেলে মো. সোয়াইবের পথরোধ করে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে সোয়াইবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় এবং নাকে আঘাত লেগে রক্তপাত হয়। আ. জলিল দুলালের আঘাতে সোয়াইবের ডান হাতের নখ ভেঙে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহত ব্যক্তিরা ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে জানান খোদেজা বেগম। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আ. জলিল দুলাল বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তারা হাবিবুল্লাহর কাছ থেকে সমিতির নামে কিনেছেন। জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য হাবিবুল্লাহকে বলা হলে তিনি ঢাকা থেকে এসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা দোকানঘরটি ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। সকালে তিনি শুনেছেন, হাবিবুল্লাহ লোকজন নিয়ে এ কাজ করেছেন।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আ. জলিল দুলাল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে হাবিবুল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প নেই: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প নেই: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism’।

উপাচার্য মন্তব্য করেন, পর্যটন এখন আর শুধুমাত্র আনন্দ-বিনোদন কিংবা অবকাশযাপনের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের রয়েছে সমুদ্রসৈকত, নদী, বন, পাহাড়, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। যদি এসব সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে পর্যটন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, সেবার মানের ঘাটতি, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই। উপাচার্য উল্লেখ করেন, বিশ্ব পর্যটন খাতে ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে। স্মার্ট পরিকল্পনা, তথ্য-উপাত্তভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বিপণন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এআই পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার বাংলাদেশের পর্যটনসেবাকে আরও আধুনিক, পর্যটকবান্ধব এবং বৈশ্বিক জনগণের জন্য সহজলভ্য করতে সক্ষম হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এআই-নির্ভর পর্যটন হবে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। ছোট উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও আন্তর্জাতিক পর্যটনবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, দায়িত্বশীল পর্যটন আচরণ এবং সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

উপাচার্য ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, এআই, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল বিপণন এবং স্মার্ট আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পর্যটনবিষয়ক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তাদের উদ্ভাবনী গবেষণা এবং উদ্যোগ টেকসই পর্যটনের বিকাশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস শুধুমাত্র উদ্‌যাপনের দিন নয়; এটি পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন করে অঙ্গীকার করার দিন। প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা এবং মানবিকতার সমন্বয়ে একটি আধুনিক, সেবামুখী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তি যেন কখনো মানুষের বিকল্প হয়ে না ওঠে; বরং মানুষের সেবা, আতিথেয়তা এবং মানবিকতাকে আরও কার্যকর করার মাধ্যম হিসেবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং রহিমাফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেডের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ রহিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড রুরাল বেসড অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ইরফান আহমেদ।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস শাহীদ মিয়া, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সেলিম, এনজিও দিশার নির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম এবং গোয়িংফ্লাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ইরফান আহমেদ বলেন, পর্যটন খাতের সামগ্রিক রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় শিল্পবিপ্লব থেকে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দিকে অগ্রসর হতে ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এআইয়ের সঠিক প্রয়োগ একজন পর্যটকের গন্তব্য নির্বাচন, তথ্য অনুসন্ধান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, সহজে বুকিং, ভাষান্তর এবং ভ্রমণ-অভিজ্ঞতাকে অনন্য করে তোলার পাশাপাশি ফিরতি যাত্রাও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা, স্বল্প সময়ে উদ্ভাবনী ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি এবং সরকারি পর্যায়ে পর্যটকদের জন্য সঠিক তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা এবং গবেষণাভিত্তিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়িক খাতকে সমৃদ্ধ করে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতেও এআই এবং ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে নিভে গেল সোহাগের জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


প্রতিবেশীর ঘর বাঁচাতে নিভে গেল সোহাগের জীবন

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একই বাড়ির দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের ঘরের আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া মো. সোহাগ (৪৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়িতে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হন সোহাগ।

নিহত সোহাগ ওই বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন দেখে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও তা নেভাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার সময় তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, সোহাগ বেকার ছিলেন। তিনি খুব অসহায় ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার খবর পেয়ে সোহাগও অন্যদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে একটি ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে আবেদন করেছেন। এ জন্য সোনাইমুড়ী থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় একটি ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে তিনি আগুনে দগ্ধ হন।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুয়েটে কোডিং পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে কার্যকর হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


রুয়েটে কোডিং পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে কার্যকর হয়নি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইউনিক কোডিং পদ্ধতি’ চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখা যায়নি। পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে এ পদ্ধতি চালুর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিটি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল উত্তরপত্রে রোল নম্বরের পরিবর্তে কোড প্রবর্তন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (২৫ সিরিজ) তিনটি বিভাগ—কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই)—এ পরীক্ষামূলকভাবে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্ধারিত তিনটি বিভাগে সফলভাবে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে সব বর্ষ ও বিভাগে তা সম্প্রসারণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিভাগ তিনটির প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় এ পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটেনি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে কোডিং পদ্ধতির প্রাথমিক বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকটিতে ইতোমধ্যে কোডিং পদ্ধতি চালুর দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পরীক্ষার উত্তরপত্রে কোডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগে এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ইতিহাস ও ইংরেজি বিভাগে এ পদ্ধতির আওতায় পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সব পরীক্ষায় কোডিং পদ্ধতি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও রুয়েটের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এমন স্থবিরতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়ে রুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তৌহিদ আরিফ খান চৌধুরী জানান, কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানকে দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ইতোমধ্যে কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও নির্ধারিত ফরম্যাট পেলে টপশিট প্রস্তুত, কোডিং-ডিকোডিং এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ‘কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোথাও জটিলতা থাকলে তা ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।’ পাশাপাশি পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন, মডারেশন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে একাধিক শিক্ষক যুক্ত থাকেন। এ ছাড়া উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের (রিভিউ) সুযোগ থাকায় কোনো শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র এককভাবে অবমূল্যায়িত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কম।

প্রশাসনের বক্তব্যের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোডিং পদ্ধতির বিকল্প নেই। দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি এবং সব বিভাগে কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%