প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেহেরপুর, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : মেহেরপুরে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কিছু কৃষক আগাম সবজি চাষ করে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। অন্যদিকে, কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ রোপিত চারার পরিচর্যা ও জমি প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতকাল জুড়ে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কৃষকরা পর্যায়ক্রমে চারা রোপণ করছেন। এর ফলে মৌসুমের বিভিন্ন সময়ে সবজি বাজারজাত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, শিমসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আগাম সবজি চাষের পাশাপাশি, শীতের পুরো মৌসুমের উৎপাদন ধরে রাখতে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে মনোযোগ দিচ্ছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, অনুকূল আবহাওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও সেচের কাজে কৃষক পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দিন মজুররাও কাজ করছেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শ্রমিকের সংকট, মজুরি বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সার সংকট কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
সরেজমিনে মেহেরপুর জেলার চকশ্যামনগর, গোভিপুর, বুড়িপোতা, শোলমারি, কাথুলি ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকদের সবজি চাষের ব্যস্ততা। প্রতিদিন সকাল থেকে মাঠে কৃষকরা তাদের জমিতে সবজি চাষের জন্য বিভিন্ন কাজ করছেন। কেউ হাল-মই দিচ্ছে, কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছে, আবার কেউ বেড তৈরির কাজ করছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জমি প্রস্তুতের জন্য এসব কাজ অব্যাহত থাকে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ বীজ বপন করছে এবং কাউকে সবজিতে পোকা নাশক ওষুধ স্প্রে করতে দেখা গেছে।
জেলায় এখন পর্যন্ত আগাম শাক-সবজি রোপণ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে যে সকল শাক-সবজি রোপণ করা হয়েছে, তার মধ্যে শীতকালীন আগাম সবজি আলু, শিম, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, লাল শাক, পুঁই শাক, পালংশাকসহ খরিপ দুই মৌসুমের আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষাবাদ করা হয়েছে।
সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামের সবজি চাষী সানোয়ার হোসেন বাসস’কে জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি কপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগাম জাতের এসব সবজি চাষ করতে প্রতি বিঘাতে হাল-মই, চারা রোপণ, বেড তৈরি, জমি নিড়ানি, পানি সেচ, সার এবং কীটনাশক বাবদ খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এবছর বৃষ্টির কারণে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ খরচ কমেছে প্রায় ১ হাজার ৫শ’ টাকা। আগাম এই শাক-সবজি চাষে খরচ কিছুটা কম হয়। তবে দাম ভালো পেলে ভালো লাভের আশা করছেন এই কৃষক।
মনোহরপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে এবার দুইবার বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো তৈরি বীজতলার চারা রোপণের উপযোগী হয়েছে। তিনি ৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি, পাতাকপি ও ওলকপি রোপণ করবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ বাসস’কে বলেন, দিনে রোদ আর রাতে ঠান্ডার এই আবহাওয়া আগাম সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকরা আগাম ফসল বাজারে তুলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাদের চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন