প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যয়ের ভিত্তিতে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয়।
আজ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণরূপে আমদানি-নির্ভর পণ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। আমদানিকৃত তেলের দাম নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে এফওবি মূল্যের সাথে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, পরিশোধন ব্যয়, পরিবহন এবং অপচয়জনিত খরচ যুক্ত করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যদি আমদানিকারকরা দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানে থাকেন, তাহলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের লোকসান থেকে সুরক্ষা দিতে বাজারে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। দুই ঈদ উপলক্ষে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। একই সাথে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে আমদানিকারকদের ঋণপত্র খোলা এবং আমদানির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে।
চিনির বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি মজুদ রয়েছে। ইউটিলিটি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সাময়িক উৎপাদন ব্যাহত হলেও দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর তাদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বেতন সমন্বয় একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর হবে না, বরং আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ফলে বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনুমোদনের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র আড়াই হাজার টন চাল রপ্তানি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যারা চাল রপ্তানি করতে পারেননি, তাদের অনুমোদন উল্লেখযোগ্য হারে বাতিল বা কমানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন