প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে মার্কিন প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে তথ্যটি উঠে এসেছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট যখন বক্তব্য দেন, তখন মার্কিন কূটনীতিকরা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
এই কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর ভোটের সময়। ওই ভোটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে একযোগে টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
এরপর জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা ছিল, কিন্তু বর্তমানে তাদের সেই অবস্থান নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার তুলনা করা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এর জবাবে ফ্রান্সের সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ফ্রান্স এমন একজন ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছে, যিনি গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে উপদেশ দেন কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে দমনমূলক শাসকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেননি।
উল্লেখ্য, ভলকার টুর্ক অতীতে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া বলেছেন, ফ্রান্স তাদের 'অহংকারী ও অসম্মানজনক' মন্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
ভলকার টুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদ ১৪৪টি দেশের সমর্থনে অনুমোদিত হয়, যেখানে ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয় এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
এই ভোটের ফলে ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের মধ্যে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন আগেও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং একাধিক সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস টুর্কের পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন। তিনি জানান, যারা অনিয়ম, গোপন সমঝোতা এবং জাতিসংঘের পদগুলোর অপব্যবহারকে স্বীকার করে, তাদের এই সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ও অর্থায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলেও জানান।
অন্যদিকে, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট ভলকার টুর্ককে 'বিবেকের কণ্ঠস্বর' বলে পরিচিত করেন। তিনি বলেন, প্রথম মেয়াদে টুর্ক দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
এছাড়াও, জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক পুরো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধুমাত্র বলেছেন, জাতিসংঘ আশা করে, সব সদস্য রাষ্ট্র সংস্থাটির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন