প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরীয়তপুরের জাজিরায় রান্নাঘরে মজুদ করা ককটেল বিস্ফোরণের ফলে আহত রোকেয়া বেগম (৪০) মারা গেছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার মূলনা ইউনিয়নসংলগ্ন সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকায় ফারুক ছৈয়ালের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় একই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ওই সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত ৭০ বছর বয়সী মান্নান সরদার মারা যান। এ ঘটনায় একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
রোকেয়া বেগম ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে রান্না করতে রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। ফারুক ছৈয়াল মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ সময় রান্নাঘরে রাখা ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে পাশের বাঁশঝাড়ে গিয়ে পড়ে। এতে সামাদ ছৈয়াল ও হাকিম ছৈয়ালের দুটি বসতঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন রোকেয়া বেগমকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান। এরপর থেকে তিনি বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডের হিসাব ব্যবস্থাপক হিমেল আহমেদ জানান, রোকেয়া বেগম নামের নারী আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে গেছেন। আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান। পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, রোকেয়া বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র এখনো থানায় আসেনি। ওসি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন