ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই পা হারানো সত্তার খানের পাশে দাঁড়াল মানবিক সংগঠন সদরপুর


দুই পা হারানো সত্তার খানের পাশে দাঁড়াল মানবিক সংগঠন সদরপুর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় দুই পা হারানো এক অসহায় ব্যক্তির স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে সামাজিক সংগঠন মানবিক সংগঠন সদরপুর। সংগঠনটির উদ্যোগে পঙ্গু সত্তার খানের জন্য ‘মানবিক স্টোর’ নামে একটি চা ও মুদি দোকান স্থাপন করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সদরপুর উপজেলার নয়রশি নতুন বাজার এলাকায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দোকানটির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানবিক সংগঠন সদরপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সহযোগী উপদেষ্টা বিল্লাল হোসেন, সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

জানা যায়, সদরপুর উপজেলার চর ব্রাহ্মন্দী গ্রামের বাসিন্দা সত্তার খান একসময় কাঠের ফার্নিচারের ডিজাইনের কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পর্যায়ক্রমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে স্ত্রী ও চার কন্যাকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তার পরিবারের জীবিকা।

পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য সত্তার খান একটি ছোট চায়ের দোকান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এজন্য তিনি ঋণ বা হাওলাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে কিস্তিতে টাকা উত্তোলন করে দোকান করার চিন্তা করলে বিষয়টি মানবিক সংগঠন সদরপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির নজরে আসে। এরপর সংগঠনটি তার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ চা ও মুদি দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সংগঠনের নেতারা জানান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই মানবিক সংগঠন সদরপুরের মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সাত বছরে সংগঠনটি বহু অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। ভবিষ্যতেও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবিতে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি জানালেন উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


ইবিতে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি জানালেন উপাচার্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, খেলাধুলায় বহুবার আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী স্টেডিয়াম নেই।

শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যের সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সুনাম রয়েছে, কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতাও বিদ্যমান। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীরের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাধুলায় সাফল্য থাকলেও স্থায়ী স্টেডিয়াম আজ পর্যন্ত গড়ে উঠেনি। তাই তিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত ঘাটতি, সংযোগ সড়কের দুরবস্থা এবং শিক্ষক সংকট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আটটি বিভাগে মাত্র এক থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি শিক্ষক সংকট দূর করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চান।

উপাচার্য আরও জানান, আমরা কোনো ধরনের আপস ছাড়াই সর্বোচ্চ যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা, একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। এটিই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এবং স্বাতন্ত্র্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন শিক্ষার্থীরাও এই সুনাম ধরে রাখবে এবং সাধারণ মানুষের করের টাকায় অর্জিত শিক্ষার মর্যাদা রক্ষা করবে।

উপাচার্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ও চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভাষা দক্ষতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হবে সহজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হবে সহজ

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মিত হলে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পথটি আরও সহজ হবে। এর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করা। এই নির্মাণকাজের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের সূত্র থেকে জানা গেছে, রাজধানীতে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের সভায় ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্পকে নতুন অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই সভায় মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড দুটি সেতু নির্মাণে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে।

প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মোট ব্যয় পিপিপি মডেলে ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ভোলা-বরিশাল সেতুর ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। পিপিপি নীতিমালা অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

সেতু বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার। নির্মাণ কাজ শেষে এটি হবে দেশের দীর্ঘতম সেতু। এটি দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে বরিশাল স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে।

২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী ৩০ বছরে প্রকল্পটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সেতুটি নির্মিত হলে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, মিয়াগাওয়া এককভাবে অথবা অন্য কোনো জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অংশ নিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের আগে ট্রানজিশন পরামর্শক নিয়োগ, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরবর্তী ধাপে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) আহ্বান করা হবে। মূল্যায়ন শেষে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সরকার চুক্তি করবে।

বাংলাদেশে মিয়াগাওয়া এর স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেছেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু শুধুমাত্র একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।’

একই সভায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্পকেও বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের নতুন প্রকল্প হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। এটি নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার সড়কপথ প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে আসবে এবং ঢাকার ওপর যানবাহনের চাপও হ্রাস পাবে।

বৈঠকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্পও উপস্থাপন করা হয়েছে। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটির প্রতিও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেতু বিভাগ মনে করছে, মেঘনা নদীর ওপর এ সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তন আসবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম বড় অবকাঠামো প্রকল্পে মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়ানো হবে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার বলেছেন, ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে কাজ করে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে কুকুরের আক্রমনে আহত -৩, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


মধুপুরে কুকুরের আক্রমনে আহত -৩, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আকাশী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী (উত্তরপাড়া) এলাকায় পাগলা কুকুরের আক্রমণে তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিন থেকে চারটি ছাগলও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে পাগলা কুকুরটি হঠাৎ করে পথচারী ও গৃহপালিত প্রাণীর ওপর হামলা চালায়। এতে আহত হন ফুলবাড়ী (উত্তরপাড়া) গ্রামের লাল চাঁন মিয়া (৭০), ইব্রাহিমের স্ত্রী (৬০) এবং আটগাছা গ্রামের আরও একজন ব্যক্তি। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে যাতায়াত নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
এলাকাবাসী অবিলম্বে পাগলা কুকুরটিকে আটক এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২১ বছরের ঐতিহ্যবাহী এম.টি. হোসেন ইনস্টিটিউটের দ্রুত সংস্কারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


১২১ বছরের ঐতিহ্যবাহী এম.টি. হোসেন ইনস্টিটিউটের দ্রুত সংস্কারের দাবি

 উত্তরাঞ্চলের সাহিত্য, নাটক, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল লালমনিরহাট জেলা শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে অবস্থিত ১২১ বছরের ঐতিহ্যবাহী এম. টি. হোসেন ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ২ একর ৭৩ শতক জমির ওপর নির্মিত বিস্তৃত ঐতিহাসিক স্থাপনাটি একসময় জেলার অন্যতম সিনেমা হল হিসেবেও পরিচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে এটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কার উদ্যোগ না নিলে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান অধ্যায় হারিয়ে যাবে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির দরজা-জানালা, টিনের ছাউনি এবং অধিকাংশ কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, ইট খসে পড়েছে এবং চারপাশ আগাছায় ভরে পরিত্যক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির অস্তিত্ব নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ বাসিন্দা আশরাফ হোসেন ও টুলু মিয়া বাসসকে জানান, একসময় ইনস্টিটিউটটিতে ঘূর্ণায়মান মঞ্চ, সমৃদ্ধ পাঠাগার, নাটক, সংগীতানুষ্ঠান, সাহিত্য সভা ও সিনেমা প্রদর্শনের নিয়মিত আয়োজন হতো। এসব অনুষ্ঠানগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এমনকি তৎকালীন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যব্যক্তিত্বরা অংশ নিতেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ রেলওয়ে কর্মকর্তাদের উদ্যোগে 'ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট' নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের ডিস্ট্রিক্ট সুপারিনটেন্ডেন্ট পিয়ার্সের নামে এর নামকরণ করা হয় ‘পিয়ার্স ইনস্টিটুট’। পরবর্তীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রেলওয়ের চিফ টিকিট এক্সামিনার এম. টি. হোসেনের অকাল মৃত্যুর পর শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবির মুখে ১৯৩৪ সালে তার নামেই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়। জেলার প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গীতিকার ও সুরকার সত্যেন্দ্রনাথ রায় বাসসকে বলেন, স্বাধীনতার পরও দীর্ঘদিন এম. টি. হোসেন ইনস্টিটিউট এ অঞ্চলের সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল। এখানে নিয়মিত সিনেমাও প্রদর্শিত হতো। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সময়ের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি তার ঐতিহ্য হারিয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের, বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সুদৃষ্টি কামনা করেন। সাহিত্যিক নিশিকান্ত রায় বাসসকে বলেন, রেলওয়ের অসাধু কিছু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ লুটপাট ও জমি দখলের চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের আন্দোলনের কারণে সেই প্রচেষ্টা কখনো সফল হয়নি। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভাওয়াইয়া সংগীতের প্রবীণ শিল্পী তাজুল চৌধুরী বাসসকে বলেন, ‘এটি শুধু একটি ভবন নয়, লালমনিরহাটের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কার করা না হলে জেলার একটি মূল্যবান ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।’ জেলা কালচারাল অফিসার মো. হামিদুর রহমান বাসসকে বলেন, শতবর্ষী এই স্থাপনাটি সংস্কার করে পুনরায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। সে উদ্দেশ্যে দ্রুত সংরক্ষণ এবং সংস্কার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় এস্টেট অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুর হোসেন বাসসকে বলেন, ‘স্থাপনাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংরক্ষণ ও সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বাসসকে বলেন, ‘ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সংস্কৃতি কর্মীদের মতে, এম. টি. হোসেন ইনস্টিটিউট শুধু একটি পুরোনো ভবন নয়, এটি লালমনিরহাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। তাদের দাবি, সরকার দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরায় সাহিত্য, নাটক, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। অন্যথায় জেলার ইতিহাস এবং সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%