ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষিমন্ত্রী: নাগরিকের অধিকার সমান, সবার জন্য আইন কার্যকর


কৃষিমন্ত্রী: নাগরিকের অধিকার সমান, সবার জন্য আইন কার্যকর

রাজধানীর পল্লবী থানায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও দেবাশীষ নারায়ণ পালকে (৪৭) সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ চার দিনের রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করার জন্য আরও রিমান্ড চাওয়া হবে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের জেলহাজতে রাখা আবশ্যক।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে, ১১ অক্টোবর রাতে পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা রাজধানীর পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

‘আজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হতো। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজী গুলশান আরার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেন কাজী গুলশান আরা। পরে সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার মামলা করেন।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজ অর্থায়নে ২৮০০ গরিবকে পূজার উপহার দিলেন টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


নিজ অর্থায়নে ২৮০০ গরিবকে পূজার উপহার দিলেন টুকু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে, টাঙ্গাইলের ২ হাজার ৮০০ গরিব ও দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শাড়ি-পাঞ্জাবি ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যা তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে করেছেন।

উপহার হিসেবে ২ হাজার ৫০০ নারী-পুরুষের মধ্যে শাড়ি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, হরিজন সম্প্রদায়ের ৩০০ জনকে প্রত্যেকে ২ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার, টাঙ্গাইলের শ্রীশ্রী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে উপহার বিতরণের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে, দিনব্যাপী সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ও সদুল্যাপুরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন।

উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের সময় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নেও উপহার দিয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আপনাদের জন্য উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাই ভয়ভীতির কোনো কারণ নেই। সবাই নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই—আমরা সবাই বাংলাদেশি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।”

উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবু শ্যামল হোড়, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি, শ্রীশ্রী কালীবাড়ির সভাপতি স্বপন ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি’র বিরোধিতা করতে গিয়ে জাশির কোলে ওঠার খেসারত দিতেই হবে —মাহফুজ আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


বিএনপি’র বিরোধিতা করতে গিয়ে জাশির কোলে ওঠার খেসারত দিতেই হবে —মাহফুজ আলম

মাহফুজ আলম, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মন্তব্য করেছেন যে বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে ‘জাশি’র (জামায়াত-শিবির) কোলে ওঠার খেসারত দিতেই হবে। গত বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এই বক্তব্য প্রদান করেন।

‘জুলাই পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই পোস্টে মাহফুজ আলম উল্লেখ করেন, অন্তরীণ (অন্তর্বর্তী) সরকারের সময় থেকেই সেকুলার সিভিল সোসাইটি, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্সের প্রতি সাষ্টাঙ্গ প্রণাম প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য এবং সংস্কারের নামে বিএনপি বিরোধিতার উদ্দেশ্যে যারা আসলে আজীবন কালচারালি লীগ ছিলেন, তাদের জাশির কোলে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা লক্ষ্য করেছেন। কোলে ওঠার পর অনেকে নামতে পারবে না দেখে, এখনো জাশির কোলবন্দি হয়ে আছেন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মবের চাপে অনেককে ডানপন্থি থেকে উগ্র-ডান হিসেবে পরিবর্তিত হতে দেখা গেছে। এসব ডিজিটাল মব আসলে সিস্টেমেটিক প্রোপাগান্ডা ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন মেকানিজম। এই মেকানিজমকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় খুব সহজ নয়। দেশ বর্তমানে (উগ্র) ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে। বিভিন্ন ধরনের নরম-গরম ডান মিলে এটি নিশ্চিত করবে। মাহফুজ আলম বলেন, সংস্কারের নামে (ক্ষমতার জন্য?) বিএনপি বিরোধিতা করতে গিয়ে জাশির কাছে যাওয়ার খেসারত সেকুলার সমাজকে দিতে হবে। ট্রাডিশনাল আলেম সমাজকেও জাশিকে সার্ভিস দেওয়ার খেসারত দিতে হবে। এখানে কেবলই জাশির লাভ। লাভের গুড় খাওয়ার পর দুই গোষ্ঠীকেই ছুড়ে ফেলা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্স। এই আশু ভবিষ্যত পাল্টানোর ক্ষমতা আপাতত কারো নেই। আর, জাশি যত গুড টাইমে যাবে, ততই লীগ ফেরা অনিবার্য হয়ে উঠবে। মাহফুজ আলম বলেন, উই আর গোয়িং ব্যাক টু সেভেন্টি-ওয়ান। যেখানে বিএনপির একাংশ জাশির দুনিয়ায় এবং অন্য অংশ লীগের দুনিয়ায় বাস করবে। তিনি বাকিদের আপাতত জাশি প্রযোজিত কালচারাল ওয়ারে নিজেদের ব্যস্ত রাখার পরামর্শ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ট্রাম্পের আদেশনামা, বললেন আনু মুহাম্মদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ট্রাম্পের আদেশনামা, বললেন আনু মুহাম্মদ

অর্থনীতিবিদ ও লেখক প্রফেসর আনু মুহাম্মদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ট্রাম্পের ‘আদেশনামা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি প্রকৃতপক্ষে কোনো চুক্তি নয়, বরং এটি ট্রাম্পের আদেশনামা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে এবং মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

প্রফেসর আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোট দেওয়ার বিষয় নয়। সরকারের কার্যক্রমের ওপর জনগণের কতটা কর্তৃত্ব রয়েছে—এটাই মূল বিষয়। কিন্তু দেশের মানুষ এখনও সেই কর্তৃত্ব পায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশরা নিজেদের শাসন ও শোষণ বজায় রাখতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান সরকারও দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে কৃত্রিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে জনগণ সরকারকে ক্ষমতায় আনেনি, বরং ট্রাম্প তাদের সরকারে বসিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সকলের লক্ষ্য করা উচিত। নীরব দর্শক হয়ে থাকা চলবে না। সরকারকে গণবিরোধী চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে হবে।

মার্কিন চুক্তির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, এই চুক্তি কার্যকর থাকলে দেশের বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে। এতে পণ্যের দাম বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দরের ইজারা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও চুক্তি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা সরকারের অস্বচ্ছতার পথে হাঁটার প্রমাণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়ার পরেও সরকার অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও চুক্তি করে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করাই সরকারের প্রধান নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাবেশে চিকিৎসক হারুন অর রশিদ, বাহাদুর শাহ পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব আখতারুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী আরও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা ইভান তাহসীব। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা বাহাদুর শাহ পার্ক ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবি ছাত্রদলের সম্প্রীতি রক্ষায় ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


জবি ছাত্রদলের সম্প্রীতি রক্ষায় ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সব পক্ষের প্রতি ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার রাতে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর সম্পাদক) মো. মোজাম্মেল মামুন ডেনি কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর প্রথম পরিচয় হলো তারা জবিয়ান। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে, সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধির চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বজনীন সহাবস্থানের কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও মতের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছেন। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে দীর্ঘদিনের এই সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়া এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলমান সংকটের সময় আবেগ বা উসকানির প্রভাবে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। সব ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দেশের স্বার্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। সংগঠনটি মনে করে, পারস্পরিক আলোচনা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এতে ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানায় জবি ছাত্রদল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%