প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর চার বছর পূর্ণ হওয়ার এই সময়ে লাভের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের ২৬ জুন যখন যান চলাচল শুরু হয়, তখন থেকে সেতুটি থেকে টোল থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকারও বেশি।
এই সময়ে সেতুটি ব্যবহার করেছে আড়াই কোটিরও বেশি যানবাহন।
সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সেতু উদ্বোধনের পর ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৫টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় ৪০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে আদায় হয় ৮১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ৮৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে ৮৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। চলতি বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ৪৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
সর্বমোট চার বছরে টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকায়।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ঈদুল আজহায় এক দিনে পদ্মা সেতুর সর্বাধিক টোল আদায়ের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত ৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন সেতু ব্যবহার করে এবং ওই দিন টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষের সূত্র মতে, সরকার সেতু নির্মাণের সময় যে সমীক্ষা করেছিল, সেসময় ৩৫ বছরের ভিতরে খরচ ওঠার প্রকল্পন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যে গতিতে টোল আদায় হচ্ছে, তাতে পদ্মা সেতুর পুরো খরচ উঠতে সর্বাধিক ১৮ বছর লাগবে। ২০৪৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে। ২০২২ সালের জুনে সেতু উদ্বোধনের পরে হিসাব করলে মোট ২২ বছরেই উঠে যাবে বিশাল এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়।
সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়ে বলেন, পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তবে, আর্থিক দিকের পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তি হ্রাস করা এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উজ্জীবিত করাই এই সেতুর সবচেয়ে বড় অর্জন।
লাভের পথে পদ্মা সেতু প্রকল্প সম্পর্কে বলা যায় যে, সরকারের স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ অর্থবিভাগের কাছে ঋণ নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে দিয়েছিল সরকার।
সেতু বিভাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, প্রতি কিস্তিতে গড়ে ১৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় কিস্তি ঋণ পরিশোধ শুরু করে। এ পর্যন্ত সেতু কর্তৃপক্ষ ১৬ কিস্তিতে ২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা সরকারকে পরিশোধ করেছে।
ঋণ পরিশোধ, সরকারের ভ্যাট পরিশোধ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মিটিয়ে যমুনা সেতুর পরে সেতু কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় প্রকল্প হিসেবে লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে সরকার। ঋণ পরিশোধ ছাড়াও সেতু কর্তৃপক্ষ ৫০৮ কোটি টাকার মতো সরকারকে ভ্যাট পরিশোধ করেছে।
পদ্মা সেতুর টোল থেকে বাকিটা রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে ব্যয় হচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আলতাফ হোসেন শেখ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছে। এ পর্যন্ত ১৬টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। এর বাইরে মোট টোল আদায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। তাছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের খরচও রয়েছে। তবে যে গতিতে টোল আদায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমরা ব্রেক ইভেন্টে পৌঁছে যাবো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন