০৯:৪৮ এম
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি মুসলিম কবরস্থানে একাধিক কবরের স্মৃতিফলক ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। নারেলানে আল নূর ইসলামিক কবরস্থানে এই ঘটনার ফলে মুসলিম কমিউনিটিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয়জনের কবর দেখতে গিয়ে ভাঙা স্মৃতিফলক দেখে মর্মাহত হয়েছেন অনেক স্বজন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর কবরস্থানের বেশ কিছু সমাধি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কবরগুলোকে ভাঙচুর করেছে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ভাঙচুরের শিকার কবরগুলোতে কারও মা-বাবা, কারও সন্তান, আবার কারও দাদা-দাদি ও নানা-নানি শায়িত আছেন। তারা এই দেশের নাগরিক। মৃত্যুর পর তাদের শেষ আশ্রয়স্থলের এমন অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটির সেক্রেটারি গামেল খেইর মন্তব্য করেছেন, মৃত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা সমাজের দায়িত্ব। কবরস্থানে এমন ঘটনা শুধুমাত্র মৃতদের অসম্মান নয়, বরং তাদের স্বজনদের জন্যও গভীর কষ্টের। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আল নূর কবরস্থান ঘিরে এর আগে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তারা উল্লেখ করেছে, পূর্বে মুসলিম কবরের ওপর শূকরের মাথা ও দেহাবশেষ ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। একাধিক সমাধির স্মৃতিফলক ভাঙচুরের পর কবরস্থানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলো মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কবরস্থানে নজরদারি ক্যামেরা বসানো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের মাল্টিকালচারালিজম বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ক্যাম্পার ও মাল্টিকালচারাল এনএসডব্লিউ এই কাজে সহযোগিতা করছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলসও কবর ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকেও কবরস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভাঙচুরকারীদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন