প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে ৪০ জন নিহতের ৪১ বছর পূর্তিতে শোক দিবস পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, প্রার্থনা ও রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নিহতদের স্মরণ করেন।
দিবসের আলোচনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আবাসিক হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্থানে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সকাল সাড়ে ৭টায় ভিসির নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর হলের কিশোরীলাল রায় চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভিসি। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. দেবাশীষ পাল, সাবেক প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. অজয় কুমার দাস এবং জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক নিবাস চন্দ্র মাঝি।
আলোচনায় ভিসি নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মর্মান্তিক ঘটনা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ঐক্যের এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। আবাসিক হলসহ সবাই যেন নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে থাকতে পারেন, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে চান তাঁরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার—নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মাণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আলোচনা সভায় জগন্নাথ হলের আহত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে হলের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল, হোস্টেল ও প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। সকালে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ হলগুলোর মসজিদে মোনাজাতের কর্মসূচি রাখা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে নিহতদের তৈলচিত্র ও সংশ্লিষ্ট স্মারকসামগ্রী প্রদর্শন করা হয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হলের উপাসনালয়ে শোকসংগীত ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া হল প্রশাসনের উদ্যোগে ‘অক্টোবর স্মৃতি রচনা প্রতিযোগিতা’ ও ‘অক্টোবর স্মৃতি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ২৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিহতদের স্মরণে শোক দিবস পালন করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন