প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেরুজালেমে নতুন স্থায়ী মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য বুধবার ইসরা লের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি দুই দেশের ‘অটুট জোটের' প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে জেরুজালেমকে রাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর সাথেসাথেই তিনি তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনটি সরানোর নির্দেশ দেন।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সম্পর্কিত খবরটি জানায়। তবে একটি স্থায়ী স্থান নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত, জেরুজালেমের বিভিন্ন পৃথক স্থানে দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ওয়াশিংটন ‘জেরুজালেমকে ইহুদিদের শাশ্বত, আদি এবং সর্বকালীন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেরুজালেমের মাটিতে আমাদের আমেরিকান পতাকা স্থায়ীভাবে উড়াব। এখানে একটি নতুন স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এটি ইসরাইলে আমাদের সব কূটনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।’
হাকাবি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি বলব, ঈশ্বর ৩ হাজার ৮০০ বছর আগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগে বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছিল। আমরা কেবল সেটি স্বীকার করতে এতদিন সময় নিয়েছি।’
জেরুজালেমের দক্ষিণাঞ্চলের অ্যালেনবি কমপ্লেক্সে নতুন দূতাবাসটি নির্মাণ করা হবে। ট্রাম্পের ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতি থেকে ভিন্ন ছিল। ঐ নীতি অনুযায়ী, জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল।
জেরুজালেম হচ্ছে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একটি বিতর্কিত শহর। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর, ইসরাইল পুরো শহরকে তাদের অবিভক্ত রাজধানী ঘোষণা করে। তবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই এই দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।
ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে দাবি করে আসছে। এই পরস্পরবিরোধী দাবির উদ্ভবের কারণে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তেল আবিবে স্থাপন করেছে। তাদের অবস্থান হল, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী, শান্তি আলোচনার মাধ্যমেই জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারণ হওয়া উচিত।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের এই চুক্তি দুই দেশের ‘অটুট জোটকে’ আরও দৃঢ় করেছে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি জানান, ‘২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আজ স্থায়ী দূতাবাস কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরুর চুক্তির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ পেয়েছে।’
কিন্তু ইসরাইলের অধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ নির্ধারিত স্থানে দূতাবাস নির্মাণের বিষয়টি সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি ‘গভীর একটি ঐতিহাসিক অবিচারকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।’ সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ‘১৯৫০ সালের বৈষম্যমূলক অনুপস্থিত সম্পত্তি আইনের আওতায় ফিলিস্তিনি জমির মালিকদের কাছে ইসরাইল যে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তার ওপর অবস্থিত।’
বিবৃতিতে বলা হয়, মূল ফিলিস্তিনি মালিকদের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে তারা এর আগে আপত্তি জানিয়েছিল। উল্লেখ্য, ওই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র এবং জর্ডানের নাগরিক। এই সংগঠনটি দাবি করেছে, এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি ইসরাইলের অবৈধ উচ্ছেদ এবং ভূমি দখলের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে। একইসাথে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মূল ফিলিস্তিনি মালিক ও তাদের উত্তরাধিকারীদের মৌলিক সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।’
এই দূতাবাস চুক্তিটি এমন এক সময় হয়েছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একসঙ্গে লড়াই করছে। এবং একই সাথে ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে মতপার্থক্যের খবরও পাওয়া গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন