প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার লক্ষ্যে নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি সম্মেলন আয়োজন করেছে গ্লোবাল ডিজিটাল অপারেটর ভিওন এবং এর বাংলাদেশি শাখা বাংলালিংক।
গত বৃহস্পতিবার, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে নিউইয়র্ক সিটিতে এই বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও!’ উদ্যোগের আওতায় এটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন।
সম্মেলনে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ, সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ভিওন চলতি বছরের শুরুতে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও!’ উদ্যোগটি চালু করে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে প্রস্তাবিত পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে মোট ১০০ কোটি ডলারের এফডিআই আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনিসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ব্ল্যাকরক, রথসচাইল্ড, আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
ভিওন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কান তেরজিওগ্লো মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ভিওন ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে ১০০ কোটি ডলারের এফডিআই আনতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের যুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলালিংকের মাধ্যমে ভিওন কানেক্টিভিটি থেকে ডিজিটাল সেবায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। এর ফলে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ, বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভিওনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা অগি কে ফাবেলা জানান, যেসব দেশের ডিজিটাল সম্ভাবনা এখনো বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছেনি, সেসব দেশে বিনিয়োগ করে আসছে ভিওন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বড় তরুণ জনগোষ্ঠী ও দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতিকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে।
সম্মেলনে বাংলালিংকের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছ থেকে স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল বা স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালুর অনুমোদন। এর ফলে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকায় উপযুক্ত মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এ সেবা চালু হচ্ছে।
এছাড়া, ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের অংশীদারিত্বে নতুন ডিজিটাল ব্যাংক চালুর অনুমোদনের বিষয়টিও সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ অনুমোদনের কথা জানান। একই সপ্তাহে বাংলালিংক তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্ত পে’ চালু করে। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, মার্চেন্ট ও বিল পরিশোধ এবং অর্থ বিতরণের সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলালিংকের রূপান্তরের যাত্রায় নিউইয়র্কের এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্র করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতে বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন