প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মারক নয়, এটি নাগরিক সাহস, আত্মত্যাগ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ মন্তব্য করেছেন। সংকটের মুহূর্তে যে সাহস ও সংহতি মানুষের মধ্যে দেখা গেছে, তা প্রমাণ করেছে যে জাতীয় স্বার্থ মুখ্য হলে সব বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই সম্মিলিত চেতনা একটি মূল্যবান সম্পদ। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ তিনি এসব বক্তব্য প্রদান করেন। রিজভী বলেন, সংবিধান সংশোধন বা পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেও, দেখা যায় যে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটে কোনো এক ছিদ্রপথে। তখন কাগজে লেখা আইন নিরাপত্তা দিতে যথেষ্ট নয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য একসময় তীব্র আন্দোলন করেছিলেন, কিন্তু পরে নিজেই তা সংবিধান থেকে মুছে দেন। মূল বিষয় হলো, এটি কোনো আইনগত বিষয় নয়, বরং মানুষের মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। বিএনপির এই নেতা রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মতাদর্শগত আলোচনা-সমালোচনা বা তর্ক থাকলেও রাজনীতিবিদদের একটি ‘কমন পয়েন্টে’ আসা উচিত। রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। মানসিকতার এই পরিবর্তন ঘটলে সংবিধান সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন কার্যকর হবে। রিজভী বলেন, একটি জাতির ভিত্তি শুধুমাত্র ভূখণ্ড, অর্থনীতি বা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। প্রকৃত ভিত্তি হল ইতিহাস, স্মৃতি এবং মূল্যবোধ। জাতীয় স্মৃতি অতীতচারিতা নয়, এটি আত্মপরিচয়ের ভিত্তি এবং নৈতিক চেতনার উৎস। ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করলে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা মানে শুধু স্মরণ নয়, সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা।’ ছাত্র-তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে নিজের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সাফল্য অর্জনে ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই, এবং বুকে একটি আদর্শিক বোধ থাকলে সাফল্য আসবেই। অনুষ্ঠানে রিজভী জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারন করেন এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন