প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুটি মাদ্রাসাছাত্রকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও পরবর্তীতে জানা গেছে যে, ঘটনা আসলে ছিল সাজানো। মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো না লাগায় পাঁচ শিক্ষার্থী মিলে অপহরণের নাটক তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত সোমবারের রাতের। ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের নূরে মদিনা ইব্রাহিমিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের দুই শিক্ষার্থী জুনাইদ মিয়া (১৩) ও সাঈদ হাসান (১৫)-কে চনকান্দা মসজিদের পার্শ্ববর্তী একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই রাতেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।
জুনাইদ মিয়া অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার সন্তান, অন্যদিকে সাঈদ হাসানও একই এলাকার লোকমান মিয়ার ছেলে। এরপর অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের সঙ্গে আরও তিনজন শিক্ষার্থী মিলে এই ঘটনার সাজানো ছিল। তারা হলো মোসাইদ (১১), পিতা উবায়দুল্লাহ; ইমামুল হক (১৩), পিতা এরশাদ মিয়া এবং সিদরাতুল (১২), পিতা মো. ফারুক। তাদের সূচিত বাড়ি অষ্টগ্রাম থানার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল এলাকায়।
জানা গেছে, মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো না লাগায় একত্রিত হয়ে এই অপহরণের নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুসারে জুনাইদ ও সাঈদ ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটাতে যায়। সেখানে প্রতি জন ৫০০ টাকা করে দেয় বলে জানা যাচ্ছে। পরদিন দুপুরে তারা আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে তাদের স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসা ও ঘটনার ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ার ফলে বিষয়টি আসলে সাজানো বলে জানা যায়।
পাঁচজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা মাদ্রাসার পড়াশোনা ভালো লাগছিল না। তাই কয়েকজন মিলে কিছু সময়ের জন্য বাইরে থাকার পরিকল্পনা করেন। পরে অপহরণের মতো একটি ঘটনা সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা সবাই মিলে বাইরে গিয়েছিল। আমাদের কেউ অপহরণ করেনি।
আমাকে কেউ জোর করে তুলে নেয়নি। আমরা নিজেদেরই বাইরে গিয়েছিলাম। পরে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটিয়েছিলাম। পরদিন দুপুরে আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসি।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানাচ্ছে, রাতের বেলায় দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আসলে ঘটনাটি ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইচ্ছায় মাদ্রাসার বাইরে গিয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা বলেছিলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্যও উদ্বেগের ছিল। শিক্ষার্থীরা এভাবে না জানানোর সঙ্গে বাইরে চলে যাবে, এটা আমরা চিন্তা করতে পারিনি। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানি, পড়াশোনা ভালো না লাগার কারণে তারা এমন পরিকল্পনা করেছিল। বিষয়টি আমরা গুরুতরভাবে নিয়েছি।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে অপহরণের খবর পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে অনুসন্ধানে বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। শিক্ষার্থীরা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সেটাই আমরা গ্রহণ করবো।
এ সম্পর্কে ভৈরব থানার এস আই রাকিব জানান, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তদন্তে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য মেলেনি। তাদের সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তারা নিজেদের পরিকল্পনায় মাদ্রাসার বাইরে ছিল। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন