প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের বিআরটিএর জেলা কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্স সংক্রান্ত সেবাসহ যেকোনো কাজের জন্য সেবাগ্রহীতাদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হচ্ছে। যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে দালালচক্রের প্রভাব এবং গ্রাহক হয়রানি সহ নানা অনিয়মে ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ওই কার্যালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অবৈধভাবে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বিআরটিএর কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া তাদের কিছুই করা সম্ভব নয়। কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে গ্রাহকদের পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড (মাঠ) টেস্ট পরীক্ষায় পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সরাসরি ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সিরিয়াল পেতেও বাড়তি টাকা দিতে হয়।
জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য তিন হাজার ২৪ টাকা ও শিক্ষানবিশদের ক্ষেত্রে ৮৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে লাইসেন্স পেতে গুনতে হয় অতিরিক্ত আরো কয়েক হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী শামসুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি করা ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না করে তালবাহানা শুরু করে।
অন্য এক ভুক্তভোগী আব্দুল আউয়াল জানিয়েছেন, ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান ও মোটরযান পরিদর্শক ওসমানগনি ও সাখওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।
২০২৫ সালের ৭ মে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ দুদক কার্যালয় সহকারী পরিচালক তুষার আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।
অভিযানকালে দুদক টিম ছদ্মবেশে সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে একজনকে দালাল সন্দেহে আটক করে বিআরটিএ, নারায়ণগঞ্জের অফিস প্রধানের কক্ষে নিয়ে যায়। এসময় তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিকট কোনো সন্দেহজনক কাগজপত্র না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে। পরবর্তীকালে বিআরটিএ অফিসে বিনা প্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করতে নিষেধ করে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে তদারকি নিশ্চিতকরণ এবং সেবা প্রদানে সিটিজেন চার্টার যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানকে দুদক টিম কর্তৃক পরামর্শ প্রদান করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, তাদের কার্যালয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি আবেদন করার পর কাগজপত্র সঠিক থাকলে খুব সহজেই লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু যথা সময়ে পেয়ে যান ওই ব্যক্তি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ওই কার্যালয়ে বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে সেটাও খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন