প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের লক্ষ্য ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়, যা প্রায় ১৪ বছরের ব্যবধানে আবারও অর্জনের চেষ্টা। ২০০৩ সালে একবার বাংলাদেশ এই শিরোপা জিতেছিল। এরপর ৯টি আসরে অংশ নিলেও তারা আর সাফ জিততে পারেনি। তবে এবারের আসরে বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক বেশি। হামজা-শমিতদের আগমনে ফুটবলের নতুন জাগরণ হয়েছে, যা ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের হাতে আবারও সাফের শিরোপা দেখাচ্ছে। আগামী ৫-১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফের ১৫তম আসরে বাংলাদেশকে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। এবারের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে ছয়টি দল। এর আগে, ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আসরে মোট ৮টি দল খেলেছিল। এর মধ্যে কুয়েত ও লেবানন ছিল আমন্ত্রিত দল। ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং রানার্সআপ হয়েছিল কুয়েত। এবার দলের সংখ্যা কমেছে এবং শক্তিশালী নেপালও খেলছে না। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সাফে অংশ নিতে পারেনি। অন্যদিকে, ভারত তাদের সিনিয়র জাতীয় দল পাঠাচ্ছে না, বরং অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে টুর্নামেন্টে পাঠাবে। আসন্ন সাফে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। অভিজ্ঞতা, শক্তি, এবং সামর্থ্য—সব দিক বিচার করলে এই ছয়টি দলের মধ্যে বাংলাদেশই ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো অভিজ্ঞ এবং প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্তির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা দলেও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও ইংল্যান্ডের ক্লাবের হয়ে খেলেন। তাদের একাদশে ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়। শ্রীলঙ্কার দলটি পারফরম্যান্সেও দুর্দান্ত। অন্যদিকে, বর্তমান পাকিস্তান দলটিও প্রতিশ্রুতিশীল। তাদেরও বেশ কিছু খেলোয়াড় ইউরোপের লিগে নিয়মিত খেলছেন। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তুলনায় ভুটান কিংবা মালদ্বীপ দলে অত বেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় নেই। সব মিলিয়ে ছয়টি দলের মধ্যে মানসম্পন্ন প্রবাসী ফুটবলারে সেরা বাংলাদেশ। আসন্ন সাফে বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এই বিষয়ে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে আটটি সাফে খেলা বিপ্লব ভট্টাচার্য একমত। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বিপ্লবের মতে, এবার সাফের শিরোপা জেতার সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে, সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। বিপ্লব বলেন, “অনেক কারণেই এবার আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে। প্রথমত, আমরা ঘরের মাঠে খেলব। তাছাড়া ভারতের জাতীয় দল আসছে না। তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলবে। নেপাল খেলবে না। আমার মনে হয়, বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। যদিও অন্যদের খাটো করে দেখছি না। তবে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অনেকটাই চাপমুক্ত থাকবে। হামজাদের অন্তর্ভুক্তিতে আমাদের যে বর্তমান দল, আমরা ফাইনাল খেলা ডিজার্ভ করি।”
২০০৩ সালের সাফজয়ী স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও মনে করেন, আসন্ন আসরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবল দল বাংলাদেশ। দলে বিশ্বমানের ফুটবলাররা যোগ দিয়েছেন। শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে পিছনে সাফের অন্য দলগুলো। আলফাজ বলেন, “অন্যদের চেয়ে আমরা অবশ্যই এগিয়ে আছি। এ দলটির সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা উচিত। যদি শিরোপা জিততে না পারে দলটি, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের ব্যর্থতা।” আলফাজের মতে, সাফের শিরোপা জয় নির্ভর করছে কোচ থমাস ডুলির পরিকল্পনা, কৌশল এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন কোচ। আলফাজ বলেন, “কীভাবে খেললে শিরোপা জেতা যাবে, সেই টার্গেট করতে হবে কোচকেই। খেলোয়াড়রা তো তাদের সেরা পারফরম্যান্সটাই দেবে। প্রত্যাশা করি, দলটি সাফের শিরোপা জিতুক।”
সব দলের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও আলফাজ আহমেদ মনে করেন, সাফে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হবে আক্রমণভাগকে। কারণ দুর্বল আক্রমণভাগ নিয়েই বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে। বিশেষ করে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশন নিয়ে কোচ বেশি চিন্তিত। আলফাজ আহমেদের মতে, আক্রমণভাগের দুর্বলতার খবর পুরোনো। তবে এখানে যারা খেলছেন, তারা বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। এই জায়গায় ভালো করতে হবে। স্কোয়াডে যারা আছেন, যে কেউই গোল করতে পারেন। অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে যদি টাইমিংয়ে খেলোয়াড় থাকেন, তাহলে গোল হবেই। সেখানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন সুকি, ফারহানরা। উইং থেকে ভালো মানের বল পাওয়া গেলে স্কোর করার সামর্থ্য রয়েছে তাদের। অন্যদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ফিফা আয়োজিত আসিয়ান কাপে খেলেছে। এই টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে খেলে ১৩ গোল হজম করে কোচ থমাস ডুলির দল। এই ভরাডুবির পরপরই সাফ চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ। সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব মনে করেন, আসিয়ান কাপে শুধু যে গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল তা নয়, বরং পুরো দল ভয়ানক বাজে খেলেছে। যদি সাফে মানসিক সাপোর্ট ও উৎসাহ দেওয়া যায় খেলোয়াড়দের, তাহলে আস্থা ফিরে পাবেন গোলরক্ষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন