প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে রাতভর একটি ব্যাপক সমন্বিত হামলা পরিচালনা করেছে। হামলার ফলে রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র, ডাটা সেন্টার এবং বন্দর অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস (TASS) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর রসদ সরবরাহ কেন্দ্র, বন্দর ও পরিবহন পরিকাঠামো এবং সামরিক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন নৌযান লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় প্রধান যেসব স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে:
কিয়েভের লোকোমোটিভ ডিপো: কিয়েভের একটি প্রধান লোকোমোটিভ ডিপোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। রাশিয়ার দাবি, এই ডিপোটিতে ইউক্রেনের 'FP-5 ফ্লেমিঙ্গো' গ্রাউন্ড-বেসড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সেন্টারসমূহ: ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর তথ্য আদান-প্রদান ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহৃত 'বিমোবাইল' (Bemobile) ডাটা সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও সামরিক প্রশাসনিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র 'পার্কোভি' (Parkovy) ডাটা সেন্টারেও আঘাত হানা হয়।
ড্রোন প্রস্তুতকারক কারখানা ও ওয়ারহাউস: কিয়েভ অঞ্চলের বেলোগোরোদকা গুদাম টার্মিনাল এবং ওডেসা অঞ্চলের ভেলিকলোডোলিনস্কয়ে এলাকায় অবস্থিত ফিক্সড-উইং ড্রোন তৈরির কারখানা ও গুদামে হামলা চালানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও বন্দর অবকাঠামো: রুশ বাহিনী ওডেসা অঞ্চলের উসাতোভো সাবস্টেশনে হামলা চালিয়েছে, যা ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। ইজমাইল বন্দর ও ওডেসা বন্দরে সামরিক রসদবাহী একাধিক পণ্যবাহী জাহাজে আঘাত হানা হয়।
ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রেন চলাচলে বিপর্যয়
ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কিয়েভ এবং ওডেসায় বিকট শব্দে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী ভোলিন অঞ্চলের ইয়াগোদিন চেকপয়েন্টেও বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই ভয়াবহ হামলার প্রভাব পড়েছে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ইউক্রেনীয় রেলওয়ে পরিষেবা (Ukrzaliznytsia) জানিয়েছে, সারা দেশে অন্তত ৬৬টি যাত্রীবাহী ট্রেনের সূচিতে বিলম্ব ঘটেছে। এর মধ্যে ৫০টিরও বেশি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা বা তার বেশি দেরিতে চলছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে উজহোরোদ থেকে খারকিভগামী ট্রেনটি, যা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টারও বেশি দেরিতে চলাচল করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন