প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের মধ্যে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা যাই হোক, তাতে সবার সমান গুরুত্ব রয়েছে। ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার অধিকার নেই।
আজ রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ কোনো সুবিধা পাবে না। নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। সত্যিকারভাবে গণতন্ত্রের ভিত্তি হল অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বরদের নিয়ে একটি জাতীয় সংগঠন গঠন করা হবে। এডহক কমিটি আপনারা তৈরি করবেন এবং সেই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী আসবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের দেশ ছোট হলেও সমস্যা অনেক রয়েছে। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগণের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি দল গুছিয়ে নিয়েছি, সরকার গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। এ বছরের মধ্যে ৪১ লক্ষ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে। কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি ১০ হাজার টাকার কৃষক ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খাল খনন শুরু হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই কাজগুলো জনগণের স্বার্থে, তৃণমূল সাধারণ মানুষের জন্য। উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনগণের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে, সে কাজে শুরু হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, এটি অত্যাবশ্যক। অন্যথায় শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গঠন সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, শুধু ইউএনও, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা উন্নয়ন সম্ভব নয়। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাঁদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ সঠিক নেতৃত্বের ক্যানিপথ চূড়ান্তভাবে নেয়। তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চিনে।
ধর্মীয় বিভাজনের বিষয়েও মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে, সম্পদ সীমিত। নতুন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা চলছে। ধর্মের নামে বিভাজন চলবে না এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও অন্য ধর্মকে খাটো করা মানা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে গণতন্ত্রের ভূমিকে ভেঙে দিয়েছে। ৭১ থেকে ২৪ পর্যন্ত তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। জনগণের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অন্যায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বরখাস্ত না করার কয়েকটি আইন পাসের চেষ্টা চলছে। চেয়ারম্যান-মেম্বরদের যে ভাতা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত সামান্য। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন