প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আবু সাঈদ হত্যার ঘটনার দুটি মামলার ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রত্যাহার করেছেন। এটি রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন।
এখন ওই দুই মামলা চলতে সিএমএম আদালতের আর কোনো বাধা থাকল না। এই নির্দেশনা প্রকাশিত ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষ দুই পাতায় দেওয়া হয়েছে।
তাজহাট থানার এই দুই মামলার ব্যাপারে রায়ে বলা হয়েছে যে, বিচারকাজ চলাকালে ঘনিষ্ঠ কার্যক্রম এবং পরস্পরবিরোধী রায় থেকে এড়ানোর জন্য ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর 'আদেশ নম্বর ২৯'-এর মাধ্যমে ওই দুই মামলার স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এখন যেহেতু ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তাই ওই স্থগিতাদেশ আর প্রয়োজনীয় নয়।
মুখ্য মহানগর হাকিম অনুযায়ী ওই মামলাগুলোর কার্যক্রম চালাতে পারবেন। তবে এর জন্য ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রযোজ্য ও আইনসম্মত পর্যবেক্ষণ নিতে বলা হয়েছে।
রায়ের একটি অনুলিপি তাৎক্ষণিকভাবে রংপুরের মহানগর দায়রা জজ এবং মুখ্য মহানগর হাকিমের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়রেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। হত্যার ঘটনার পর পুলিশ এবং সরকার পতনের পর সাঈদের পরিবার আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেছিল।
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়া এই দুটি মামলার প্রথমটি ১৬ জুলাই তাজহাট থানায় করা হয়, যেখানে তৎকালীন এসআই বিভূতি ভূষণ রায় অজ্ঞাতনামা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আসামি করে দাবি করেছিলেন, আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে এবং গুলিতে সাঈদ নিহত হন।
১৯ অগাস্ট তাজহাট থানায় অপর মামলাটি করেন সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী। ওই মামলায় তৎকালীন আইজিপি, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
পরে নিম্ন আদালতে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আসায় অন্তর্বর্তী সরকার মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ৬ অগাস্ট অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২।
গত ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার রায়ে ৩০ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে সরাসরি গুলি বর্ষণকারী দুই পুলিশ সদস্য এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই বর্তমানে কারাগারে আছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে। এছাড়া তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, সাবেক আরএমপি কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মন্ডল এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া সহ পাঁচজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাকি আসামিদের মধ্যে ৮ জনের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১১ জনের তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। অপর দণ্ডিত মো. আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাসের সময়কে দণ্ড হিসেবে গণ্য করে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, দণ্ডিত ৩০ আসামির মধ্যে মাত্র ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, বাকি ২৪ জন পলাতক।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। আবু সাঈদের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা এবং পটভূমির সাক্ষী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালতে জবানবন্দি দেন। এছাড়া ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও এবং এনটিভির সরাসরি সম্প্রচারের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা রায়টির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাসিত এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন