প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে তিনটি পরিবারকে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে তাদের বিকল্প একটি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডীবের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মাঝখানের চলাচলের উঠান/রাস্তার অংশটি বাঁশ ও টিন দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বংশপরম্পরায় তিনটি পরিবার এই পথ ব্যবহার করে আসছিল। হঠাৎ করে পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। এখনো ভাইদের মধ্যে কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ কয়েকজন আমাদের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে বাড়ির স্থাপনা ও টয়লেট ভেঙে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেন। পরে তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজেদের পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, “শফিকুল ইসলামসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে বেড়া দিয়ে আমাদের চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। প্রতিবাদ করতে গেলে তারা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বলে, তাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলে তাদের নামও নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, মাহমুদুল হাসান রনির সঙ্গে যোগসাজশ করে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করেছেন। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চলাচলের পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, “আমরা একজন ওয়ারিশ ছাড়া বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি। ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গাও করে দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন