প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের অভিবাসনব্যবস্থা বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার প্রবণতা রেকর্ড পরিমাণে বাড়ার কারণে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পড়ে গেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নাগরিকেরা বৈধ ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক এবং ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে ব্রিটেনে প্রবেশ করেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়েছে যে বৈধ ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের গোপন পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান বর্তমানে ১৭৫টি দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সবচেয়ে বড় উৎস। ব্রিটেনে মোট আশ্রয় আবেদনের প্রতি ১০টির একটি পাকিস্তানি নাগরিকের, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
বর্তমানে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নৌকা অভিবাসনের চেয়ে বিমানবন্দরের বৈধ প্রবেশপথ ব্যবহার করে ভিসাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় অপব্যবহার চলছে। পাকিস্তানিরা পর্যটক, ছাত্র অথবা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে ভিসা নিয়ে প্রবেশ করেই হাজার হাজার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা দিচ্ছে। তারা সীমান্ত পার হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই শরণার্থী আবেদনে অংশ নিচ্ছে।
পাকিস্তানি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে পড়াশোনা ছেড়ে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৫,৮৮৮ জন, যা ভারত ও বাংলাদেশের সম্মিলিত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি একটি পরিকল্পিত অপব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং পরে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অজুহাতে আশ্রয়ের আবেদন করা।
ওয়ার্ক এবং ভিজিটর ভিসায় প্রবেশ করে আশ্রয় চাওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে সাময়িক ভিসা নিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে মোট আশ্রয় আবেদনের ৩৭.৬ শতাংশ এসেছে এ ধরনের ভিসাধারীদের কাছ থেকে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের সাবেক জ্যেষ্ণ কর্মকর্তা জেমি জেনকিন্স এই পরিস্থিতিকে অভিবাসন ব্যবস্থার ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের উদার ভিসা নীতির ফাঁকফোকর পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ বলেছিলেন, ‘ব্রিটেনের সীমান্ত ব্যবস্থা প্রকাশ্যে অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। ছাত্র বা পর্যটক ভিসাকে আশ্রয় পাওয়ার বিকল্প পথ হতে দেওয়া যাবে না।’ অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশত্যাগের প্রবণতা বেড়ে গেলেও সরকারী বিশ্লেষকদের মতে, কেবল দারিদ্র্য বা ভালো জীবনের আকাঙ্ক্ষা আশ্রয়ের জন্য আইনি ভিত্তি হতে পারে না। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদের নেতৃত্বে ব্রিটেনের হোম অফিস ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতি প্রণয়ন করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ‘ভিসা সুইচিং’-এর মাধ্যমে আশ্রয়ের আবেদন করবেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (আইএলআর) পেতে ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে এবং প্রতি ৩০ মাস পরপর তাদের স্ট্যাটাস পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন