প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য 'র অনুকূলে ঐচ্ছিক তহবিল অনুদানের প্রকাশিত তালিকায় সংসদ সদস্যের মেয়েসহ তার নিকটাত্মীয়দের নাম থাকার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। এরপর অভিযোগ ভিত্তিতে ব্যক্তিগত সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরজন্য দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী দলের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য ও নড়াইল জেলা জামায়েতের আমির মো. আতাউর রহমানকে সতর্ক করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদের প্যাডে নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়। চিঠিটির অনুলিপি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসক নড়াইল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নড়াইল সদর ও লোহাগড়া এবং প্রেসক্লাব নড়াইল বরাবর পাঠানো হয়েছে। এমপি স্বাক্ষরিত চিঠিটি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকেও প্রকাশ করা হয়েছে।
একই দিন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী পক্ষ থেকে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, সম্প্রতি সংঘটিত একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের নড়াইল-২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চুকে সতর্ক করা হয়েছে।
চলতি মাসের ১৪ জুন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অর্থ শাখা-২ এর সিনিয়র সহকারী সচিব রাখী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমানের অনুকূলে ২০০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বণ্টন করা হাস্তান্তর করার মঞ্জুরি প্রদান করা হয়েছে। এতে সংসদ সদস্যের দেয়া নামীয় তালিকার ২১ জনের জন্য বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। ওই চিঠির ১ ও ৮ নং ক্রমিকে 'ফাইজা' নামটি এমপি আতাউর রহমানের মেয়ের নাম। এবং ঠিকানা হিসেবে নড়াইল সদরের হবোখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উল্লেখ করা হয়। এছাড়া দুই ক্রমিকে 'ফাইজা' নামের বিপরীতে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের অনুমোদনের কথা রয়েছে।
এমপি কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত চিঠিতে, নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে মোট ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে।
সমালোচনা বেড়ে যাওয়ার পর ২৬ জুন নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমানের ঐচ্ছিক তহবিল অনুদানের মঞ্জুরিকৃত চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, 'একজন সংসদ সদস্যদের বার্ষিক ঐচ্ছিক তহবিলে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এই অর্থ বছরের বাকি সময়ের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।' তিনি বলেন, 'এত মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় জানলাম তারা নামের তালিকা বলছে।' তিনি যোগ করেন, 'টাকার বরাদ্দ হয়েছে এটা জানায়নি।'
তিনি বলেন, 'এটি ফেসবুকে দেখে প্রশ্ন করেছিলাম কেন আমার মেয়ের নাম এখানে।' তার ব্যক্তিগত সহকারী জবাব দেয়, 'অন্যান্য নাম যাচাই করে দিয়েছি।' তিনি বুঝতে পারেন, 'আগামীতে এই সমস্যা তৈরি হবে।' তিনি জানান, অনুদান পাবার যোগ্য তালিকা করেই দেওয়া হবে।
নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি. এম রাহসিন কবির বলেন, 'এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী দেওয়া তালিকায় থাকা নাম থেকেই এই অনুদান আসে।' তিনি সতর্ক করেন যে তালিকায় সংশোধনী আনতে হলে তা সচিবালয় থেকেই করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন