প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০১:২৭ এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ইং; ০৯:৫৭ এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ।
নারুয়া-গোয়ালদাহ ঘাট এলাকায় প্রায় ৯৮০ মিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত সেতুটির নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও নদীর মাটির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও ঘাট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সেখানে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. এবাদত আলী এবং চীন থেকে আসা দুই প্রকৌশলী।
পরিদর্শনকালে প্রকৌশলীরা প্রস্তাবিত সেতুর স্থান, গড়াই নদীর গতিপথ, নদীর তলদেশ ও আশপাশের এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সেতু নির্মাণের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গড়াই নদীর কারণে বালিয়াকান্দির নারুয়া ও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারের জন্য নৌকার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
প্রস্তাবিত প্রায় ৯৮০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মিত হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির সঙ্গে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও গতি আসবে। এছাড়াও পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর জেলা গুলোও সুফল পাবে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সেতুটি নির্মাণ হলে একদিকে যেমন কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দুই উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিও বাড়বে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এতদিন নৌকায় নদী পারাপার করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে এবং নদীর মাটির পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। এখন নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন দুই উপজেলার মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর করতে প্রস্তাবিত গড়াই সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হোক। তাদের মতে, সেতুটি শুধু দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ করবে না, বরং এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন