প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খরায় কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে সক্রিয় থাকা মাত্র দুটি ইউনিট থেকে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
এই তথ্য বুধবার (১০ জুন) রাঙ্গামাটির কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, কেন্দ্রটি সংখ্যায় সবকটি ইউনিট সচল থাকলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবের কারণে সেগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
পানি স্বল্পতার কারণে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে ২ নম্বর ইউনিটে ৩৩ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটে ২৭ মেগাওয়াট, মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। তবে, জানানো হয়েছে যে সবকটি ইউনিট একত্রে চালু অবস্থায় ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র মতে, বর্তমানে লেকে পানি থাকার কথা ৭৮ দশমিক ০৮ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু লেকে বর্তমানে পানি রয়েছে ৭৩ দশমিক ৯৯ এমএসএল। এর ফলে পানি স্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে, যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে লেকে পানি বাড়বে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া, উল্লেখযোগ্য নতুনতর বিষয় হচ্ছে, ৬৮ এমএসএল-কে বিপজ্জনক স্তর হিসেবে ধরা হয়। যদি পানির লেভেল ৬৮ এমএসএলে নেমে যায়, তাহলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
অন্যদিকে, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি একইসাথে হ্রদের নৌপথের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভোগান্তিও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে লেকের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি উপজেলা; বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু এবং বাঘাইছড়ির মধ্যে নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠার কারণে নৌযান চলাচল দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন