প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২ নভেম্বর , ২০২৬ : রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ১৩ জনকে এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা পল্লবী থানার আরেকটি মামলায় ৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কালাম উদ্দিন। এছাড়া মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম। এর আগে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
পৃথক তিন মামলায় কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. কামাল গাজী (৩২), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), রমজান সরকার (১৯), মো. মহিম মোল্লা (১৯), জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান (২২), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ (১৯), মো. নাহিদ হাসান (১৮), মাহবুবুর রহমান জুয়েল (৩৮), শামীম (২৩), মো. সুমন গাজী (২৮), মো. ইউসুফ আলী (২২), রাজীব চন্দ্র দাশ (২৮), মো. জামাল সরকার (৩৩), মো. তারেক হোসেন (২৪), মো. ইমরান হোসেন (৩০), মো. আবুল কাসেম (২২), মো. মহীন উদ্দিন (২৩), কাওসার আহমেদ (২২), মো. রফিক গাজী (২১), মো. ইসমাইল (২০), মো. সাইফুল ইসলাম (২৬), মো. সজীব শেখ (২০) এবং মো. মোর্শেদ আলম (২৫)।
পল্লবী থানার পৃথক দুই মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল ১ নভেম্বর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় মিরপুর-১২ এলাকায় প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তি জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে আগুন লাগিয়ে দেন। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ ও পেট্রলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, তাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন।
মিরপুর মডেল থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গতকাল ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদের বেতনসংক্রান্ত বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে মিরপুর-১০ এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্য সামিয়া আহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন