প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বুধবার লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। তাদের দাবি, তারা এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সাধারণ সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। টানা দ্বাদশ রাতের মতো ইরানে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দুবাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে। হুথিরা জানায়, ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে অবরোধ অমান্য করায়। ব্রিটিশ নৌ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে, আল শুকাইকের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতের তথ্য দিয়েছেন। এই ঘটনায় জাহাজে আগুন লাগে এবং নাবিকরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।
সৌদি বন্দরগুলো অবরোধে হুথিদের হুমকির পর লোহিত সাগরে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে এসব নৌপথ আগেই অস্থির অবস্থায় ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে প্রতিটি হামলার জবাবে ইরানের একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। এই ঘোষণার জবাবে তেহরানও ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, ফলে উভয় পক্ষের হুমকির তীব্রতা আরও বেড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি নৌপথের ওপর সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে পড়েছে। তেহরান আবারও অবরোধ কার্যকর করেছে এবং প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজে গুলি চালাচ্ছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যখনই কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করবে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, দেশের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার জবাবে একইভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি স্পষ্ট। চোখের বদলে চোখ। ইরানের বিরুদ্ধে, আমাদের অবকাঠামোসহ যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম দেশের সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির ফল হবে শুধু যুদ্ধের আরও বিস্তার।
যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এ পর্যন্ত যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের মাঝামাঝি অবস্থায় এ ব্যয় ছিল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। তবে, চার মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ গ্রহণের জন্য একটি বিমানঘাঁটিতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প যুদ্ধবিরোধী জনমত জরিপ প্রত্যাখ্যান করেন। চার সেনাসদস্যের মধ্যে তিনজন জর্ডানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন এবং আরেকজন ইরাকি ভূখণ্ডে অবিস্ফোরিত একটি ইরানি ড্রোন নিয়ন্ত্রণের সময় নিহত হন।
ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিনরা জ্বালানির উচ্চমূল্য চায় না। তবে তারা যুদ্ধের বিরোধীও নয়।’ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বুধবার সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এটি ছিল প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম। পরে কিছুটা কমলেও, দিনের শেষে অপরিশোধিত ফিউচার তেলের দাম প্রায় তিন শতাংশ বেশি ছিল।
এবারে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সর্বশেষ হামলা শুরু হয়। তাদের ভাষ্য, আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন