প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পরিবেশদূষণ হ্রাস, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ইজিবাইক চালকদের আয় বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোরের সিসিটিএসের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যদি এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যায় তবে একবার চার্জে ইজিবাইক ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম হবে। এছাড়া চালকদের দৈনিক আয় প্রায় ২০০ টাকা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি (ডেসকো) রাজধানীর উত্তরখানে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের জন্য একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারিক সুবিধা ও সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের।
তিনি আরও বলেন, “ইজিবাইকে প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হলে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একবার চার্জে অধিক দূরত্ব অতিক্রম করতে পারলে চালকদের কর্মঘণ্টার কার্যকর ব্যবহার এবং আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।”
দেশের শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থায় ইজিবাইক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বল্প দূরত্বে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এসব যানবাহন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, চার্জ দেওয়ার খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণ চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমদানি করা কয়লার পরিবর্তে দেশের ভূগর্ভে থাকা কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
দেশীয় কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে উত্তোলন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুল হক মনি। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাপার কেন্দ্রীয় কমিটির নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল আহমেদ, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক হক সাবুসহ অন্যান্য অতিথিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন