প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আত্মবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে বর্তমান রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু শৈশব থেকে পরিচিত ‘বিবি’ নামেও তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত। গত বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এই নামে সম্বোধন করেছিলেন।
তৎকালীন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, "আমেরিকাই ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছিল, আর এখন আমেরিকাই বিবি নেতানিয়াহুকে বাঁচাবে।"
প্রকৃতপক্ষে, ‘বিবি’ নামটি নেতানিয়াহুর শৈশবের ডাকনাম। একটি চাচাতো ভাইয়ের নাম অনুসারে তিনি এই নামটি পান। পরবর্তীতে ইসরায়েলের রাজনীতিতে তার উত্থানের সঙ্গে ‘বিবি’ নামটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠে।
নেতানিয়াহুর আত্মজীবনী ‘বিবি : মাই স্টোরি’ এবং তার জীবনীভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে এই নামের উৎপত্তির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী, তার চাচাতো ভাই বিনিয়ামিন রনের ডাকনাম ছিল ‘বিবি’। ছোটবেলায় ওই ভাইকে ‘বি, বি’ বলে ডাকতেন তার বোন দাফনা। সেখান থেকেই নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে এটি নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে থাকে এবং এক সময় তার পরিবারের মধ্যে স্থায়ী হয়ে যায়।
১৯৪৯ সালের ২১ অক্টোবর তেল আবিবে জন্মগ্রহণকারী নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন নেতানিয়াহু ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ এবং ডানপন্থী জায়নবাদী চিন্তাধারার অনুসারী। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ নেতানিয়াহুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় চলে যান। পরে ইসরায়েলে ফিরে দেশটির অভিজাত বিশেষ বাহিনী সায়েরেত মাতকালে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সায়েরেত মাতকাল হলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং শীর্ষ স্তরের এলিট স্পেশাল ফোর্সেস বা কমান্ডো ইউনিট।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক এবং ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন নেতানিয়াহু। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজ করেন। সাবলীল মার্কিন ইংরেজি ও টেলিভিশনে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে।
১৯৯০-এর দশকে লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে উঠে আসেন নেতানিয়াহু। আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক কৌশল এবং গণমাধ্যম ব্যবহারের দক্ষতা তার উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ‘বিবি’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে আরো পরিচিতি পায়।
ব্যক্তিগত জীবন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও তিনি ইসরায়েলের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ফলে শৈশবের ‘বিবি’ ডাকনামটি কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি তার রাজনৈতিক পরিচয়েরও অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক উপাধি নয়; এটি শৈশব থেকে চলে আসা একটি ব্যক্তিগত ডাকনাম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন