প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ কর্তৃক প্রকাশিত একটি নতুন বিশ্ব মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশ এবং আকসাই চীনকে পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করার কারণে তীব্র আপত্তি ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) গৃহীত একটি প্রস্তাবের আলোচনার সময় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশকে চীন ও ভারতের আসাম রাজ্যের মধ্যবর্তী একটি স্বাধীন সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসাম ব্যতীত অন্যান্য প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্যের সঙ্গে এর সীমান্তরেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, লাদাখ অঞ্চলের আকসাই চীন অংশটিকেও পৃথক অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে ভারতের পশ্চিম পাশে এবং চীনের পূর্ব পাশে সীমানা নির্দেশ করা হয়েছে। জাতিসংঘ কর্তৃক জুলাইয়ে প্রকাশিত এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আলোচনায় ব্যবহৃত এই মানচিত্রে এমন অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জাতিসংঘের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট উত্থাপন করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিশ্বজুড়ে ভৌগোলিক মানচিত্রে মহাদেশ ও অঞ্চলগুলোর আপেক্ষিক আয়তন সঠিকভাবে তুলে ধরতে আনা সমান-ক্ষেত্রফল নীতি সংক্রান্ত একটি সাধারণ পরিষদ প্রস্তাবে ভারত সমর্থন জানিয়েছিল। তবে, সেই প্রস্তাবে সমর্থনের অর্থ কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্র বা এতে প্রদর্শিত বিভ্রান্তিকর সীমান্তকে সমর্থন করা নয়। প্রস্তাবটি মূলত মারকেটর অভিক্ষেপ পদ্ধতির কারণে বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্ট ক্ষেত্রফলের বৈষম্য দূর করে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আকার তুলে ধরার নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছিল। জয়সওয়াল বলেন, এই প্রস্তাব কোনো বেসরকারি বা নির্দিষ্ট কোনো সংস্থার মানচিত্রকে স্বীকৃতি দেয় না। জাতিসংঘের এই অনভিপ্রেত মানচিত্রের অসঙ্গতিগুলো ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লি দীর্ঘকাল ধরেই দাবি করে আসছে যে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল; যার মধ্যে আকসাই চীন অন্তর্ভুক্ত; ভারতের ভূখণ্ডের এক অখণ্ড এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইভাবে, অরুণাচল প্রদেশকেও ভারতের চিরন্তন ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগেও জাতিসংঘের মানচিত্রে বিতর্কিত সীমান্ত প্রদর্শনের সময় ভারতের সার্বভৌম অবস্থানের কথা বারবার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি গৃহীত ‘ক্যালিব্রেট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল আফ্রিকার মতো অঞ্চলগুলোর ভৌগোলিক আয়তনকে মানচিত্রে সঠিক অনুপাতে প্রদর্শন করা।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন