প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অভিনেত্রী সাফা কবির ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, একজন শিল্পীকে দেশের বাইরে গিয়ে কেন বারবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সাফা বাঁধনের ঘটনার প্রতি তার ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং বাঁধনের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেন।
সাফা মন্তব্য করেন, বাঁধন ও তার পরিবারের যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শিল্পী যখন দেশের বাইরে চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সিনেমা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তার প্রাপ্য হওয়া উচিত সম্মান ও নিরাপত্তা।
অপমান, হয়রানি কিংবা আতঙ্ক নয়, বরং নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা উচিত।
সাফা দেশের শিল্পীদের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে টেনে আনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন শিল্পীর স্বাধীনতা হচ্ছে সত্য, ন্যায় ও মানুষের কথা বলা। তবে কেন একজন শিল্পীকে বারবার মূল্য দিতে হবে তার কণ্ঠ ও মত প্রকাশের জন্য, সেই প্রশ্ন তিনি উত্থাপন করেন।
কিছু মানুষের আচরণের কারণে পুরো দেশের মানুষকে বিচার করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাফা। তিনি বলেন, কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশে বাংলাদেশিদের হিংস্র, উগ্র কিংবা অসভ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। এমনকি দেশের বাইরে তাদের সম্মান, ভিসা কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাফা বাঁধনের ঘটনার পর কয়েক দিনের আলোচনা ও প্রতিবাদের বিষয়টি হারিয়ে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেন। নতুন কোনো ঘটনা সামনে এলে আগের ঘটনা চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে বিষয়টি মনে রাখার আহ্বান জানান।
একজন শিল্পীর নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বাধীনতা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি সমাজ, দেশ ও জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ও। তাই কোনো শিল্পীর কণ্ঠ, সম্মান ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনৈতিক বিরোধের মূল্য হওয়া উচিত নয়।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে ইতালির ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় হামলার শিকার হন আজমেরী হক বাঁধন। এ সময় তিনি তার ভাই ও শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ছিলেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দেয়। তারা বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর বাঁধন ফেসবুক লাইভে এসে জানান, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, শরীরে পানি ছুড়ে মারা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে এ ঘটনায় স্থানীয় ভেনিস থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন