প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণকে সফল ও টেকসই করার জন্য সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা জোর দিয়েছেন জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর।
এই বিষয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর নীলক্ষেতে আইসিএমএবি ভবনের রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণ: টেকসই রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক কৌশলগত সংলাপে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সভাপতিত্ব করেন আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মো. কাওসার আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে তোলা। তিনি জানান যে, এলডিসি সুবিধা থেকে বেরিয়ে গেলে রপ্তানি, ওষুধ শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করেই উত্তরণের পথে এগোনো উচিত।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ করছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত এবং সম্পূর্ণ অনলাইনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সুশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা অসাধারণ; প্রয়োজন শুধু কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সঠিক নীতি সহায়তা।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আগামী দিনে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং ভ্যালু অ্যাডিশন বৃদ্ধি এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করাও হবে মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি যোগ করেন, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে পোশাক শিল্পের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা, শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা হ্রাসের প্রভাব এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের কৌশল নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। আলোচনা সঞ্চালনা করেন আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ খান, এফসিএমএ। অনুষ্ঠান শেষে আইসিএমএবির সেক্রেটারি মনজুর মো. সাইফুল আজম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা অভিন্নভাবে মত দেন, এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হলেও প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কাঠামোগত সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। তাদের মতামত, তাড়াহুড়া নয়—সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও টেকসই প্রস্তুতির মাধ্যমেই বাংলাদেশ এলডিসি-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন