প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আট মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৮১টি যুদ্ধবিমান, সামরিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সমরযানের মধ্যে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২, ই-৩ সেন্ট্রি, এমকিউ-৯ রিপারসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান এবং সামরিক উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সিআরএসের হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, গত মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পূর্ববর্তী সংস্করণে মার্কিন সমরযানের ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা ৪২টি ছিল। তবে সর্বশেষ হিসাবে এই সংখ্যা বেড়ে ৮১টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে মে মাসের পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ৩৯টি সমরযান হারিয়েছে—এমনটি বোঝায় না। নতুন তথ্য পাওয়া এবং আগে নথিভুক্ত না হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিআরএস জানিয়েছে, তাদের এই হিসাব চূড়ান্ত নয়। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে কিংবা আগে রিপোর্ট না হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিষয় শনাক্ত হলে তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া তালিকায় থাকা সব উড়োজাহাজ যে স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়েছে, তাও নয়; কিছু ক্ষতিগ্রস্ত বিমান মেরামতের পর আবার সামরিক কাজে ফিরেছে।
সর্বশেষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সংখ্যা রয়েছে। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যবহৃত এই ড্রোনের অন্তত ৪৫টি হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ এবং একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান।
এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানগুলোর কিছু ক্ষতির ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে সিআরএস। ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ তিনটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্চে ইরানের হামলার সময় একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সেটি মেরামত করে পুনরায় সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে সিআরএসের ৮১টির তালিকাকে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া সমরযানের সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, তিনটি এমকিউ-১ সিরিজের ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ই-৩ সেন্ট্রি ও এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানোর তালিকায় রয়েছে।
বিশেষ করে ই-৩ সেন্ট্রির ক্ষতি মার্কিন বাহিনীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এই উড়োজাহাজ আকাশপথে নজরদারি, আগাম সতর্কতা এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় করা হয়।
সিআরএসের হিসাব অনুযায়ী, আট মাসে মার্কিন সমরযানের এই ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্যও বড়। ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সামরিক উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন ও মেরামতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।
সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি পরিবর্তন এবং নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সমরযানের ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা আরও বাড়তে বা পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ৮১টি উড়োজাহাজের হিসাবকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া সর্বশেষ সংখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন