১০:৪৬ এম
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় নিরাপত্তা স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার কারণে ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) এই ঘোষণা দেন জেলার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১৪৪ ধারা জারির ফলে জেলাটিতে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন এবং জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বিভিন্ন সরঞ্জাম বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বর্তমানে পিটিআইয়ের লংমার্চ খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে দলটি শুরুতে এ কর্মসূচি নিয়ে কেন্দ্রীয় রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিজেই বহরের নেতৃত্ব দিয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাবেন।
আরও পড়ুন: কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের হাতে আসা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) এক বৈঠকে রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনারকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা, প্রধান সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মানুষের জীবন, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ এবং জেলার সামগ্রিক শান্তিশৃঙ্খলা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গোয়েন্দা কমিটি জানিয়েছে, কিছু গোষ্ঠী ও ব্যক্তি বড় জমায়েত, বিক্ষোভ এবং বিশৃঙ্খল সমাবেশের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে লোকজনকে সংগঠিত করছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্পর্শকাতর এলাকায় হামলা চালাতে পারে—এমন ব্যক্তিদেরও জড়ো করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৪৪ ধারা জারি করে রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন নাদিম নাসির পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছেন।
আরও পড়ুন: কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু
একই সঙ্গে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, ঘরে তৈরি বিস্ফোরক, ধারালো স্পাইক, ভারী লাঠি, গুলতি, ধাতব বল, পেট্রলবোমা এবং মানুষের শারীরিক ক্ষতি করতে পারে—এমন অন্যান্য সরঞ্জাম বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহার এবং সমাবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর এ আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
ইসলামাবাদ ও লাহোরেও ১৪৪ ধারা
পাকিস্তানের আরও কয়েকটি এলাকায় আগে থেকেই ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের নিয়ে উদ্বেগ
ওই আদেশে রাজধানীর রেড জোনসহ জেলার রাজস্ব প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে সব জনসমাগমস্থলে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, র্যালি ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লাহোরে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। জনশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকির কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লাহোরের জনসমাগমস্থল, সড়ক ও খোলা জায়গায় পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও সমাবেশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে বিয়ের অনুষ্ঠান, জানাজা, দাফন, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়, আদালত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
আরও পড়ুন: বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার অভিযোগ
তথ্যসূত্র: দ্য ডন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন