প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন হতে যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। এই জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে স্বৈরশাসনের নির্যাতন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের নানা স্মৃতি ও দলিল নিয়ে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একসময় লাল দেয়ালের গণভবন ছিল বিনা ভোটে ক্ষমতা ধরে রাখা, লুটপাট, বিরোধী মত দমন, খুন, গুম ও নির্যাতনের কেন্দ্র। এই গণভবনে অবস্থান করতেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। বাকস্বাধীনতা হরণ ও লাগামহীন নির্যাতনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এই ঘটনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারের পতন হয়। সেদিন গণভবনের প্রতিটি অংশে ছড়িয়ে পড়ে জনতার ক্ষোভ, আর স্বৈরশাসকের বাসভবন চলে যায় ছাত্র-জনতার দখলে।
এরপর বহু মানুষের চোখের পানির সাক্ষী সেই গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ৫ আগস্টের নানা স্মৃতিচিহ্ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুর্লভ দলিল, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত পোশাক, বিভিন্ন স্মারক, আন্দোলনের ব্যানার, প্ল্যাকার্ডসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী শাসনের বিভিন্ন নিদর্শনও এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তবে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও এটি চালু করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে নির্মাণ ঘিরে নানামুখী দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকে। ফলে জনমনে জাদুঘরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। বর্তমান সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী ৫ আগস্ট জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতির দায়িত্বে আছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা ধারণ করেই জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রীর মতে, ভবিষ্যতে কেউ যদি স্বৈরশাসক হতে চান, তাহলে এই জাদুঘর তাদের জন্য শিক্ষণীয় হতে হবে। তিনি আরও বলেন, যদি ভবিষ্যতে কোনো শাসক আবার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে চান, তখন এই জাদুঘর তাকে মনে করিয়ে দেবে যে জনগণই রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এবং জনগণের প্রতিরোধের মুখে স্বৈরশাসনের পতন অনিবার্য।
জাদুঘর নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি কেউ নির্দিষ্টভাবে দুর্নীতির অভিযোগ করেন, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
একসময় যে ভবন ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু, সেটিই এখন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের জীবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আপসহীন সংগ্রাম, ৩৬ জুলাইয়ের জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ, গত ১৭ বছরের খুন, গুম ও নির্যাতনের ইতিহাস এবং সেই অন্যায়ের মুখে প্রতিরোধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত থাকবে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে।
এটি শুধু একটি ভবন বা জাদুঘর নয়, বরং লাখো মানুষের প্রতিরোধ, ত্যাগ ও সংগ্রামের একটি জীবন্ত স্মারক। এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সকল ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন