প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বৃদ্ধি ঘটার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মন্তব্য করেছেন যে, এখন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন।
আসিফ উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সৌদি আরব এবং পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকলেও এই পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষা করা পাকিস্তানের কর্তব্য।
তিনি আরও বলেন, ‘মক্কা চুক্তি আমাদের জন্য প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব।’ তবে তিনি পাকিস্তানের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, হুথি বিদ্রোহীরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের হামলার লক্ষ্য সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলি ও সামরিক ঘাঁটিগুলি, যা পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
খাজা আসিফ জানিয়েছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি বার্তা পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। হুথিদের হামলার কারণে রিয়াদে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আসিফ বলেন, তিনি মনে করেন যে, ইরান রাষ্ট্র হিসেবে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলবে না। কারণ, ইরান ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে চেষ্টা পাকিস্তান অব্যাহত রাখবে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইফ এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিক ছিলেন।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিরা ড্রোনটি তাইফের দিকে পাঠিয়েছিল।
হুথিদের হামলা তীব্র হওয়ার পর চলতি মাসে সৌদি আরবে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান নিজেকে একজন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্কও জোরদার হচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
অনেকে এই চুক্তিটিকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই বিধানকে খুব আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন