প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সর্বস্তরের নাগরিকেরা ভৈরবে মানববন্ধন করেছেন, যা নাগরিক সেবার মান না বাড়িয়ে গৃহ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পৌরকর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের অভিযোগ, নাগরিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ বা কার্যকর আলোচনা ছাড়াই পৌরকর প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন দুর্জয় পাদদেশে নূরানী মসজিদের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সর্বস্তরের জনতা’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল হক জয়। গণঅধিকার পরিষদের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক নুরুল কাদের সোহেল, ভৈরব এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল, ডালিয়া বেগমসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠক এবং ছাত্র ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ভৈরব দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরী। তবে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবার নানা ঘাটতি বিদ্যমান। পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই, অনেক এলাকায় ড্রেনেজব্যবস্থা অকার্যকর ও অবরুদ্ধ, প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। এই বাস্তবতায় নাগরিক সেবা না বাড়িয়ে পৌরকর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
গণঅধিকার পরিষদের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, ‘ভৈরব প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিকেরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। সেবা নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত পৌরকর আদায় অন্যায়। আগে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে, এরপর কর নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাড়তি পৌরকর না দেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা পৌরসভার কর নির্ধারণে বৈষম্য ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাঁদের দাবি, কর বৃদ্ধির আগে নাগরিকদের মতামত নেওয়া এবং কর নির্ধারণের ভিত্তি ও হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ভৈরব শহরের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় থাকায় জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব বাড়ছে। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ মশক নিধনে পৌরসভার দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ভবিষ্যতে কর পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
তাঁরা বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং জনগণের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে ভৈরব পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন